default-image

শুরু থেকেই দেশে পুরুষের তুলনায় নারীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার কম। একইভাবে নারীদের মৃত্যুও তুলনামূলক কম। তবে গত দুই মাসে এই পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। খুব সামান্য হলেও নারীদের মৃত্যুর হার বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ ছিলেন নারী। এর এক মাস পর (৩ অক্টোবর পর্যন্ত) দেখা যায়, মোট মৃত্যুর ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ নারী। আর ৩ নভেম্বর (গতকাল মঙ্গলবার) পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ নারী।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত সোমবার পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২ শতাংশ ছিলেন পুরুষ। বাকি ২৮ শতাংশ নারী। সে হিসাবে মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৯৪ হাজার ৩০০ নারীর দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন (নারী) ১ হাজার ৩৭৮ জন। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় নারীর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এখন পুরুষদের মধ্যেও মৃত্যুর হার একই।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরামর্শক মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআর,বি সম্প্রতি যে গবেষণা করেছে, তাতে আরটি–পিসিআর পরীক্ষায় দেখা গেছে, নারী ও পুরুষের মধ্যে সংক্রমণের হার সমান। কিন্তু মোট সংখ্যায় নারী কম দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হতে পারে নারীরা কম পরীক্ষা করাচ্ছেন বা লক্ষণ উপসর্গ মৃদু। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতেই পুরুষের চেয়ে নারীদের মৃত্যু কম। এ ক্ষেত্রে হরমোনের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে। সামান্য হলেও এখন নারীর মৃত্যু বাড়ছে, এর একটি কারণ হতে পারে করোনাভীতি চলে যাওয়া।

এদিকে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ১৪ হাজার ৬১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৫৯ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ৬৪৭। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৯৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৭ জন।

৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানায় সরকার। তবে মে মাস থেকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে শুরু করে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপর চলে যায়। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপর ছিল। এরপর থেকে সেটি নিচের দিকে নামতে থাকে। তবে এক মাসের বেশি সময় ধরে রোগী শনাক্তের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0