default-image

চারদিকে শুধু একটা শব্দ শুনি—করোনা। পত্রিকা, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনাভাইরাসের খবর।

নেদারল্যান্ডসে দুই সপ্তাহ থেকে এখন অবধি ১০৬ জন মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (আরআইভিএম) এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল ৫৩৪টি নতুন সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে আরআইভিএম এবং সংক্রমণের মোট সংখ্যা এখন ২ হাজার ৯৯৪। নিহত ব্যক্তিদের বয়স সর্বনিম্ন ৬৩ থেকে ৯৫ বছরের মধ্যে।

করোনা পজিটিভ—এমন বেশির ভাগ লোক উত্তর ব্রাবান্তে বাস করেন। সেখানে ১ হাজার ১২ জন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তার পরে দক্ষিণ হল্যান্ড ৪০৫, লিম্বুর্গের ৩৬৬ এবং উত্তর হল্যান্ডে ৩৫৩ সংক্রামিত হয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য জেলায়।

গত সোমবার থেকে অফিশিয়ালি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, মিউজিয়াম, পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও পোশাকবিতানগুলোর ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি, তবু মালিকেরা শপগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা গত বৃহস্পতিবার থেকে তা কার্যকর করেছে। এখন শুধু সুপারমার্কেট, ফার্মেসিগুলো খোলা রয়েছে। তবে দূরত্ব বজায় রেখে, অর্থাৎ ১.৫ থেকে ২ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব ধরনের মিটিং, অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত রেখে জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলো টেলিফোনের মাধ্যমে করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কেমন কাটছে সবার গৃহবন্দীর দিনগুলো
সরকারিভাবে ঘোষণা আসার পরপরই সবাই চেষ্টা করছে ঘরে থাকার জন্য। করোনায় আতঙ্কিত কেউই একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। স্কুলগুলো অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের বাসায় পড়ার ব্যবস্থা ও তদারকি করছে। বাচ্চারা যাতে বাসায় বসে বিরক্ত না হয়, সে জন্য অনেক অনলাইন শিক্ষণীয় ওয়েবসাইটগুলো শেখার এবং অনুশীলনের জন্য বিনা মূল্যে ওপেন করে দিয়েছে। ঘরে বসে বই পড়া এবং শোনার জন্য লাইব্রেরিগুলো বিনা মূল্যে তাদের ওয়েবসাইট খুলে দিয়েছে।

default-image

বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারগুলো কিনে বিভিন্ন পরিবারকে বিনা মূল্যে বাসায় দরজার সামনে রেখে আসছে। এতে থাকছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর খাবারসামগ্রী যা প্রতিটি পরিবারের সংখ্যা অনুযায়ী মিনিমাম ১ সপ্তাহ চলে যাবে। বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের খেলনা, সৃষ্টিশীল চর্চার সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ঘরে বসে খেলতে পারে এবং করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেকে এবং অন্যদের রক্ষা করতে পারে।

সরকার থেকে ঘোষণা এসেছে উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে তারা নীতিমালা তৈরি করছেন। এ ছাড়া চাকরিজীবীরা তাদের বেতন সময়মতো পেয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এলাকাভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে করোনা সচেতনতা, হাসপাতালের চাকরিজীবী মা–বাবার বাচ্চাদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে এবং বিভিন্ন রকম সাহায্য করতে আগ্রহী ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন স্ট্যাটাস দিচ্ছে। তা ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পৌরসভাভিত্তিক গ্রুপও খোলা হয়েছে, যাতে করে যেকোনো সাহায্যপ্রার্থী ও সাহায্যকারী উভয়ই খুব দ্রুত সাহায্য নিতে পারে।

এসব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও করোনার ছোবলে যে হারে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, সবাই নিজেদের নিয়ে যতটা আতঙ্কে আছে তার চেয়ে বেশি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কে আছে। এ দেশের মানুষ সচেতন, আইনকানুন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার চেষ্টা করেন। তবু করোনার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ...? কী হবে তাদের?

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0