বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহিত কামাল বলেন, করোনা মহামারিতে চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে মানুষের দিন কেটেছে। এখনো অনেকে কষ্ট-যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের মনের পরিস্থিতি এক রকম থাকে, মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পরে অবস্থা অন্য রকম দাঁড়ায়।

অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মৃত্যু মানসিক স্বাস্থ্যহানির কারণ হয়। শোকে ও দুঃখে অনেকে বিষণ্নতায় ভোগেন, অনেকের ঘুমে সমস্যা দেখা দেয়, কেউ কেউ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, অনেকে কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না, মেজাজ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে কারও কারও। এসব সমস্যার সমাধান আছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, করোনায় এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিবারে মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু সেবা পেয়েছেন খুবই কমসংখ্যক মানুষ। বিএসএমএমইউর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেলিনা ফাতেমা বিনতে শহিদ বলেন, অনেকে মনে করেন, যে মারা গেছে, সে তো আর ফিরে আসবে না, এখন চিকিৎসায় কী লাভ। অনেকে মনে করেন, মানসিক সহায়তা নেওয়ার অর্থ, নিজেকে ছোট করা। এসব ধারণা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা।

একাধিক আলোচক বলেন, কথা বললে মনের কষ্ট দূর হয়। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টের সভাপতি অধ্যাপক মো. ওয়াজউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বলি, মানুষ শোকে পাথর হয়ে যায়। যদি কথা বলা যায়, তাহলে পাথর গলে যায়, মন হালকা হয়। মানুষ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।’

মনের খবর ও অধীর ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ‘কথা বলো কথা বলি’ মঞ্চ গড়ে উঠেছে।

এখান থেকে করোনায় স্বজনহারাদের জন্য বিনা মূল্যে কাউন্সিলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ওপরের নম্বরে ফোন করে এই সেবা পাওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ঝুনু শামসুন নাহার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন