করোনা চিকিৎসার ব্যয়ে নজর দেওয়া জরুরি

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়ের পার্থক্য অনেক। প্রটোকল মেনে চিকিৎসা হওয়া দরকার।

বিজ্ঞাপন

দ্রুত বিস্তারের কথা বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি কোভিড–১৯–কে মহামারি ঘোষণা করে। ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন। এ পর্যন্ত দেশে ৭ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সেবাদান নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সবার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৮০ শতাংশ আক্রান্ত ব্যক্তির বিশেষ কোনো চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হয় না, তথাপি ২০ শতাংশ ব্যক্তি বিশেষত যাঁদের হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতাসহ অন্যান্য রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এ রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। জনবলের ঘাটতি, আক্রান্ত হওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী বিশেষত কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সিস্টেম ও নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে শয্যার অপর্যাপ্ততা এ রোগ মোকাবিলার প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচ্য। এ থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিটি দেশই বরাদ্দ করছে অতিরিক্ত অর্থ ও সম্পদ।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকার শুরু থেকেই জোরালো অঙ্গীকার প্রদর্শন করছে। চিকিৎসায় জাতীয় গাইডলাইন তৈরি ও হালনাগাদ করা, কয়েকটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন, বেশ কয়েকটি হাসপাতালকে কোভিড চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা, সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, দ্রুততম সময়ে অতিরিক্ত ২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ, টিকা ক্রয়সহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে নিয়মিত বাজেটের অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করাসহ বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, টিকা আসার পরও করোনা সমস্যা সহজে দূর হবে না। অতএব প্রতিটি দেশকে করোনা মোকাবিলায় এবং এর জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অধিকতর কৌশলী হতে হবে। এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ, বাজেট তৈরি, ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের জানা প্রয়োজন যে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় জনপ্রতি কত টাকা ব্যয় হয়। ব্যয়ের মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসক-নার্সদের বেতন-ভাতাদি ও সুরক্ষাসামগ্রী, অক্সিজেন, ওষুধ, রোগনির্ণয়সহ কোন খাতের অংশ কতটুকু। বিশ্বের কয়েকটি দেশে এ বিষয়ে হাতে গোনা কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। যত দূর জানা যায়, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কোনো গবেষণা পরিচালিত হয়নি।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পক্ষ থেকে কোভিডের কারণে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্নমুখী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সরকারের কাছে সুপারিশ উপস্থাপনের জন্য বেশ কয়েকটি গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীপ্রতি সরকার কত টাকা ব্যয় করে, তা জানার জন্য একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। এই গবেষণায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটকে সহযোগিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

গবেষণা পদ্ধতি

কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছে—ঢাকা শহরের এ রকম চারটি সরকারি ও দুটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। সরকারি হাসপাতালে গত বছরের এপ্রিল-ডিসেম্বর মেয়াদে কত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তাঁদের মধ্যে কতজনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সেবাদানের প্রয়োজন হয়; চিকিৎসাদানের উপযোগী করতে হাসপাতালে কত টাকা ব্যয় হয়েছে; চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি, হোটেল ভাড়া, যাতায়াত ও খাবার বাবদ ব্যয়; ওষুধ, রোগনির্ণয়, সুরক্ষাসামগ্রী, রোগীদের খাবার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়িত অর্থের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বেসরকারি হাসপাতালে গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর নাম, ভর্তি ও ছুটির তারিখ, সিট ভাড়া, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অন্যান্য খাতভিত্তিক বিভাজনসহ মোট বিলের পরিমাণ–সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহ করা হয়। তারপর প্রাক্কলিত মোট ব্যয়কে রোগীর সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে জনপ্রতি ব্যয় নিরূপণ করা হয়। তবে সরকারি হাসপাতালে ব্যয় প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে যেসব স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরুর আগে থেকেই ছিল, সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

গবেষণা ফলাফলে রোগীর সংখ্যা

চারটি সরকারি ও দুটি বেসরকারি হাসপাতালে গবেষণাকালে মোট ৭০ হাজার ৩১৪ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৪৯ জন বহির্বিভাগে, ৩১ হাজার ১৪৭ জন অন্তর্বিভাগে এবং ২ হাজার ৯১৮ জন আইসিইউতে। বহির্বিভাগে সেবা নেওয়ার তথ্য শুধু একটি সরকারি হাসপাতালের। অন্তর্বিভাগে সেবা গ্রহণকারীর মধ্যে ২৯ হাজার ১৯৭ জন (৯৩.৭%) সরকারি ও ১ হাজার ৯৫০ জন (৬.৩%) বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে ২ হাজার ৭ জন (৬৮.৮%) সরকারি হাসপাতালের এবং ৯১১ জন (৩১.২%) বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিয়েছেন। আইসিইউতে সেবা প্রদানের হার সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ গুণ বেশি।

মোট ব্যয়

চারটি সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য সরকারের ব্যয় হয়েছে মোট ৪৬৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বহির্বিভাগ ১০ কোটি ১৪ লাখ, অন্তর্বিভাগে ৩৭৪ কোটি ৪ লাখ ও আইসিইউতে ৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ব্যয়ের মধ্যে যন্ত্রপাতি, ডাক্তার-নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি, হোটেল ভাড়া, যাতায়াত ও খাবারের ব্যয়, ওষুধ, রোগনির্ণয়, অক্সিজেন, পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, রোগীর খাবার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, লন্ড্রি, ফোন, ইন্টারনেট ও পরিচ্ছন্নতা ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে দুটি বেসরকারি হাসপাতালে অন্তর্বিভাগ ও আইসিইউ রোগীর কাছ থেকে যথাক্রমে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ও ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা বিল বাবদ (সিট ভাড়া, ডাক্তারের ফি, ওষুধ, রোগনির্ণয় ও অন্যান্য) আদায় করা হয়।

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে খাতভিত্তিক ব্যয়

পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে মোট ব্যয়ের ৬০ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হয়েছে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত ডাক্তার, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, হোটেলে থাকা ও খাবার বিল এবং যাতায়াত খাতে, যা বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ওষুধ খাতে সরকারি হাসপাতালে ব্যয় হয় মোট ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যা বেসরকারি হাসপাতালে ৩০ দশমিক শূন্য শতাংশ। পার্থক্য প্রায় দুই গুণ। রোগনির্ণয় খাতে এ পার্থক্য সাত গুণের বেশি। সরকারি হাসপাতালে ২ দশমিক ৪ শতাংশের বিপরীতে বেসরকারি হাসপাতালে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, সরকারি-বেসরকারি ব্যয়ের খাতগুলো হুবহু এক হওয়ায় তা পুরোপুরি তুলনীয় নয়। তবে ওষুধ ও রোগনির্ণয় খাত দুটির মধ্যে তুলনা করা যেতে পারে। সরকারি হাসপাতালে একজন অন্তর্বিভাগীয় রোগীর পেছনে যেখানে ওষুধে ১৭ হাজার ৩৮৫ টাকা ব্যয় হয়, বেসরকারি হাসপাতালে তা ৬৫ হাজার ৫৫১ টাকা বা প্রায় চার গুণ। সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে একজন রোগীর ওষুধ খাতে ১ লাখ ৭ হাজার ১৪৪ টাকা, যা বেসরকারি হাসপাতালে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৭ টাকা বা দেড় গুণের বেশি। রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাতে এ ব্যবধান আরও বেশি। প্রতিজন অন্তর্বিভাগীয় রোগীর পেছনে গড়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এ ব্যয়ের পরিমাণ যথাক্রমে ৩ হাজার ২৯৭ টাকা ও ৪১ হাজার ৬৩৭ টাকা এবং আইসিইউ সেবা গ্রহণকারী রোগীর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৬ হাজার ৭৮৯ টাকা ও ৯৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে অন্তর্বিভাগীয় ও আইসিইউ চিকিৎসা ব্যয় যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬ ও ১৩ দশমিক ৮ গুণ বেশি।

জনপ্রতি ব্যয়

সরকারি হাসপাতালে প্রাক্কলিত মোট ব্যয়কে এবং বেসরকারি হাসপাতালের রোগীর কাছ থেকে আদায়কৃত মোট অর্থের পরিমাণকে রোগীর সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে জনপ্রতি ব্যয় নিরূপিত হয়েছে।

তাতে দেখা গেছে, অন্তর্বিভাগীয় সেবার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মাথাপিছু ব্যয় ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০৯ টাকা ও ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৪ টাকা। একইভাবে আইসিইউতে সেবার ক্ষেত্রে মাথাপিছু ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪৫ টাকা ও ৫ লাখ ৯ হাজার ০৫৯ টাকা। অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে অন্তর্বিভাগীয় সেবা ও আইসিইউ সেবার ক্ষেত্রে মাথাপিছু ব্যয় যথাক্রমে ৮৯ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ বেশি।

রোগীর মাথাপিছু দৈনিক ব্যয় বিবেচনা করলে এ পার্থক্য আরও বেড়ে যায়। সরকারি হাসপাতালে অন্তর্বিভাগে মাথাপিছু দৈনিক ব্যয় ১২ হাজার ৮১১ টাকা ও বেসরকারি হাসপাতালে তা ৩৭ হাজার ১২৮ টাকা। সরকারি আইসিইউতে দৈনিক মাথাপিছু ব্যয় ৫১ হাজার ৬ টাকা ও বেসরকারি আইসিইউতে তা ৬৮ হাজার ৮৮৫ টাকা।

বিজ্ঞাপন

উপসংহার

গবেষণায় আমরা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অন্তর্বিভাগীয় এবং আইসিইউ সেবার ক্ষেত্রে করোনা রোগীর মাথাপিছু চিকিৎসা ব্যয় প্রাক্কলন করেছি, যা চলমান করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের সম্পদ বরাদ্দ ও ব্যবহারজনিত পরিকল্পনা গ্রহণে ভিত্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। কোভিডের চিকিৎসা, বিশেষত অন্তর্বিভাগ এবং আইসিইউতে যথেষ্ট ব্যয়বহুল। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় যেহেতু কম এবং জনগণকে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় না, সেহেতু সরকারের উচিত সরকারি হাসপাতালে জোরদার চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো। সরকারি হাসপাতালে কোভিড রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদানের জন্য তাই পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং যথাসময়ে অর্থ ছাড় করা প্রয়োজন। এই ব্যয়ের একটি বড় অংশ যেহেতু ওষুধ এবং রোগনির্ণয় খাতে প্রয়োজন হয়, এই দুই খাতে বাজেট বরাদ্দের বিষয়টিতে তাই বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। সরকার করোনা টিকা বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এই খাতে বিনিয়োগ করেছে। একইভাবে অক্সিজেন উৎপাদন এবং বিপণনের ক্ষেত্রে সরকারের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা বিশেষত হাই ফ্লো অক্সিজেন সমৃদ্ধ শয্যার সুবিধা দ্রুত বাড়াতে হবে। সরকার কোভিড রোগীদের সেবাদানের জন্য যে নতুন হাসপাতালগুলো প্রস্তুত করছে, তাদের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে এই গবেষণার প্রাপ্ত প্রাক্কলিত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

বেসরকারি হাসপাতালে যে অতিরিক্ত ব্যয়, বিশেষত ওষুধ ও রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে, তা বিবেচনার দাবি রাখে। খতিয়ে দেখা প্রয়োজন যে সরকারঘোষিত প্রটোকলের বাইরে রোগীকে অতিরিক্ত ওষুধ সেবন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে কি না। সে রকম ঘটে থাকলে রোগীর আর্থিক চাপ ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি—দুটোই বাড়ছে। বেসরকারি হাসপাতালে তদারকি বাড়াতে হবে। অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য সরকার বিভিন্ন ফি ধার্য করে দিতে পারে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে কোভিড রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা প্রদানের জন্য সরকার ভবিষ্যতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীদের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় নির্ধারণ এবং ব্যয় পরিশোধের জন্য এই প্রাক্কলিত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

ড. মো. নুরুল আমিন, পরিচালক, গবেষণা, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং খণ্ডকালীন অনুষদ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।

ড. রুমানা হক, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন মাহমুদ, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন