default-image

করোনার টিকা নিতে দিনকে দিন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে টিকা নিতে আসা চল্লিশোর্ধ্ব মানুষের ভিড়ও বাড়ছে। অনলাইনে নিবন্ধন কিংবা হাসপাতালে এসে নিবন্ধন শেষে টিকা কার্ড দেখিয়ে মিলছে টিকা। নির্ধারিত তারিখ ছাড়াও কোনো কোনো হাসপাতালে টিকা কার্ড নিয়ে গেলে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচির পঞ্চম দিনে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে অন্যান্য দিনের তুলনায় লোকসমাগম বেড়েছে। তবে টিকা গ্রহণকারীরা বলছেন, হাসপাতালে করোনার টিকাকেন্দ্রগুলো কোথায়, তা খুঁজে নিতে কষ্ট হচ্ছে। টিকাকেন্দ্রের তথ্য ও নির্দেশনা আরও দৃশ্যমান হলে মানুষের জন্য সুবিধা হতো। অনেকেই হাসপাতালের টিকাকেন্দ্র খুঁজে পেতে সময় লাগায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এই সমস্যা বেশি হচ্ছে। এ হাসপাতালে স্পট নিবন্ধন করতে না পেরে কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। এদিকে মুগদা হাসপাতালে এসেও দিক নির্দেশনা দৃশ্যমান না থাকায় একই সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষেরা।

বিজ্ঞাপন

করোনার গণটিকা কার্যক্রমের পঞ্চম দিনে এসে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ। টিকাদানকেন্দ্রে টিকা কার্ড নিয়ে এলে টিকা দেওয়া হচ্ছে। মোট আটটি বুথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৩৮ জনকে। গত বুধবার দেওয়া হয়েছিল ৯৬০ জনকে। মঙ্গলবার টিকা নিয়েছিলেন ৭৬০ জন।

টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় দিনকে দিন বাড়ছে উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ হাসপাতালে মানুষের চাপ অনেক বেশি ছিল। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকা দেওয়ার কথা। কিন্তু এরপরও মানুষ এসেছেন। নিবন্ধন করে টিকা দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে কাউকে ফেরত যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

মুগদা হাসপাতালে মোট আটটি বুথে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই হাসপাতালে আজ প্রায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। গণটিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আজই এই হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হলো। আগের দিন বুধবার টিকা দেওয়া হয়েছিল ৯০৬ জনকে। মঙ্গলবার দেওয়া হয়েছিল ৩৬৭ জনকে।

default-image

সকাল ১০টায় মুগদা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির তিনতলায় করোনা টিকাদানকেন্দ্রের সামনে কয়েক শ মানুষের কেউ চেয়ারে বসে, কেউবা দাঁড়িয়ে আছেন। টিকা কার্ড যাচাই করে একে একে ১০ জন করে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। নির্ধারিত বুথে টিকা নেওয়া শেষে তাঁরা আধা ঘণ্টার জন্য বিশ্রাম নিচ্ছেন।

জনতা ব্যাংকের এক নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ আহম্মেদ। ৫৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সকালে আরামবাগের বাসা থেকে করোনার টিকা নিতে আসেন। তিনি জানান, টিকা নিতে তাঁর কোনো সমস্যা হয়নি। তবে হাসপাতালের টিকাকেন্দ্র খুঁজে পেতে তাঁর কষ্ট হয়েছিল। টিকাকেন্দ্রে আসতে লিফটও পাননি তিনি।

মুগদা হাসপাতালে স্পট নিবন্ধনের ব্যবস্থা কেবল একটি বুথে। সেটিও বেলা ১১টার আগে বন্ধ হয়ে যায়। স্পট নিবন্ধনের ব্যবস্থাস্বল্পতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। পৌনে ১১টার দিকে এই হাসপাতালে স্পট নিবন্ধন করতে আসেন গোপীবাগের বাসিন্দা আবুল হাসান। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তির অভিযোগ, ‘আমি অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারি না। এখন হাসপাতালে এসে শুনি নিবন্ধন আরও সকালে ছিল। এখন নাকি বন্ধ। বারবার হাসপাতালে আসাও তো যায় না।’

বিজ্ঞাপন

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মুগদা হাসপাতালের পরিচালক অসীম কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাসপাতালে করোনার স্পট নিবন্ধন আমরা নিরুৎসাহিত করছি। এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ১৫ জন এই হাসপাতালে টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন।’

এদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৩০ জন। ১০টি বুথে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়। এই হাসপাতালে টিকা কার্ড নিয়ে এলেই টিকা দেওয়া হচ্ছে। মুঠোফোনের খুদে বার্তা দিয়ে সময়সূচি জানানোর ব্যবস্থা নেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনটি বুথে স্পট নিবন্ধন করা হয়। কিন্তু আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্পট নিবন্ধনের জন্য বুথ কেবল একটি, নারী বুথে। সেটিও বেলা একটার দিকে বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বুথের সামনে অপেক্ষায় থাকা অন্তত আটজন নিবন্ধন না করতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সকাল পৌনে ১০টায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আসেন ৭০ বছর বয়সী রোকসানা বেগম। তাঁর পায়ে ব্যথা, সঙ্গে শারীরিক জটিলতাও আছে। বেলা দেড়টার দিকেও তাঁর স্পট নিবন্ধন হয়নি। তাঁর ছেলে আরবাব প্রথম আলোকে বলেন, ‘বয়স্ক মানুষকে নিয়ে এলাম। এখন বলছে, নিবন্ধন হবে না। যিনি নিবন্ধনের দায়িত্বে তিনি ভাত খেতে গেছেন।’

৭০ বছর বয়সী মহসেনা বেগম তাঁর নাতনি মাফলুফা ফাইজা ইসলামের সঙ্গে হুইলচেয়ারে করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে টিকা নিতে এসেছেন। মাফলুফা প্রথম আলোকে বলেন, টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে করোনা টিকাকেন্দ্র খুঁজে পেতে সমস্যা হয়েছে। এত বড় হাসপাতাল; আরও ব্যানার, দিকনির্দেশনা থাকলে ভালো হতো।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন