করোনা মোকাবিলায় নিউইয়র্কে 'টেস্ট অ্যান্ড ট্রেস' কর্মসূচি

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমেরিকার নিউইয়র্ক নগরে 'টেস্ট অ্যান্ড ট্রেস' নামে এক উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আমেরিকার অন্যতম ধনকুবের ও রাজনীতিক নগরের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ এ কর্মসূচির জন্য ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিচ্ছেন। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট রাজ্যে এ কর্মসূচি দ্রুত শুরু হচ্ছে। মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করে 'সঙ্গনিরোধ' রাখার এ কর্মসূচিতে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে।

নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো জানান, এ কাজে কয়েক হাজার লোক নিয়োগ করা হবে। প্রথমবারের মতো এমন একটি কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো মানুষকে শনাক্ত করে 'সঙ্গনিরোধ' রাখার প্রয়াস নেওয়া হবে। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ট্রেসার আর্মিদের মাধ্যমে যাদের শনাক্ত করা হবে, তারা কোয়েরেন্টিনে চলে যাবে। অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হবে। টেস্টিং, ট্রেসিং ও আইসোলেশন-এমন ধাপের এ কর্মসূচিটি সম্পূর্ন নতুন।
গভর্নর কুমো বলেন, 'আমরা লোকজনকে প্রশিক্ষণ দেব এবং এ কাজ আমাদের করতেই হবে। নিউইয়র্কে টানা তৃতীয় দিনের মতো মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ শ'র নিচে। ২২ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৭৪ জনের নাম মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হয়। এতে এ অঙ্গরাজ্যে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩০২ জন। আমরা এখনো সহনীয় পর্যায়ে না পৌঁছালেও আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছি।'
করোনাভাইরাসে মৃত্যুর তালিকায় আরও দুই বাংলাদেশির নাম যুক্ত হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. রাজ্জাক ও শরীয়ত উল্লাহ। এ নিয়ে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমেরিকায় ১৮৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হলো।


নিউইয়র্কের বিখ্যাত ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় চারটি বাঘ এবং তিনটি আফ্রিকান সিংহের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ চিড়িয়াখানায় প্রায় তিন সপ্তাহ আগে প্রথমবারের মতো একটি বাঘের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এদের শরীরে উপসর্গ দেখাল গেলে পরীক্ষা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চিড়িয়াখানার কোনো কর্মীর কাছে থেকে এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো দুটি পোষা বিড়ালের শরীরেও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

২২ এপ্রিল সকালে জানানো হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্ক নগরের মেট্রোপলিটন ট্রানজিট অথরিটির (এমটিএ) ৮৩ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নগরীর বাস, ট্রেন ও ফেরি সার্ভিস পরিচালনার কাজে এমটিএ কর্মীদের বেঁচে থাকা পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা আগেই জানানো হয়েছে। নগরে লকডাউন চালু থাকলেও এমটিএ সার্ভিস চালু আছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন এ বিভাগের কর্মীরা।
নগরের সাবওয়েতে (ট্রেন) অপরাধের ঘটনা কমলেও খুন, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটানা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আগের বছরে একই সময়ে ১৮টি হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। ঘরে ঘরে সহিংসতা, সড়ক পথে ছিনতাই, আত্মহত্যা ও গাড়ি চুরিসহ নগরীর অপরাধ তৎপরতা বেড়েছে বলে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন।
আমেরিকায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ হাজার ৬৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৯২ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু নিউইয়র্ক রাজ্যে—২০ হাজার ৩৫৪ জন এবং আক্রান্ত ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৮ জন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন