করোনাভাইরাস প্রতীকী ছবি।
করোনাভাইরাস প্রতীকী ছবি।

কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা কমাতে শুরু করেছে সরকার। গত এক সপ্তাহে সাধারণ শয্যা কমেছে ৭৮১টি। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৩টি সাধারণ শয্যা কমেছে। দুই মাসের বেশি সময় ধরে নির্ধারিত হাসপাতালগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি শয্যা ফাঁকা থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার শয্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে হাসপাতালে রোগী না থাকলেও দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা তেমন কমছে না। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ হাজার ৫৮২ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫২৮ জনের করোনা শনাক্ত হলো। আর ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৫ জন।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সার্বক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আসছে পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে এমন দেশগুলোর শীর্ষ তালিকায় সৌদি আরবকে পেছনে ফেলে ১৪ নম্বরে এসেছে বাংলাদেশ। আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫তম।

দেশে করোনা সংক্রমণ

মোট শনাক্ত (৮ মার্চ–২ সেপ্টে.) ৩,১৭,৫২৮

মোট সুস্থ ২,১১,০১৬

মোট মৃত্যু ৪,৩৫১

২৪ ঘণ্টার চিত্র

নমুনা পরীক্ষা ১৫,২০৪

শনাক্ত রোগী ২,৫৮২

মৃত্যু ৩৫

সুস্থ ২,৮৩৯

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

হাসপাতালের শয্যা কমছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে শয্যা রয়েছে ১৪ হাজার ৪৭৪টি। আর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) রয়েছে ৫৫০টি। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি ছিলেন ৩ হাজার ৮৪৫ জন। আইসিইউতে রোগী আছেন ৩০৬ জন। অর্থাৎ, মোট শয্যার ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আইসিইউর ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশই ফাঁকা ছিল।

গত সপ্তাহ থেকে করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। ২৪ আগস্ট সাধারণ শয্যা ছিল ১৫ হাজার ২৫৫টি, যা গত মঙ্গলবার ছিল ১৪ হাজার ৮৪৭টি।

বিজ্ঞাপন

চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর প্রস্তুতি হিসেবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে কোভিড-১৯ বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্ধারণ করে সরকার। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ কয়েকটি সরকারি হাসপাতালকে কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘোষণা করে সরকার। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালকেও অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৬ জুন প্রথমবারের মতো কোভিড হাসপাতালের চার ভাগের তিন ভাগ শয্যা ফাঁকা বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। সে দিন দেশে সাধারণ শয্যার ৭০ শতাংশ ফাঁকা ছিল। এরপর থেকে গতকাল পর্যন্ত অধিকাংশ দিন ৭০ থেকে ৭৩ শতাংশ শয্যা ফাঁকা রয়েছে।

করোনার জন্য নির্ধারিত রাজধানীর মিরপুরের লালকুঠিতে অবস্থিত মাতৃ ও শিশু হাসপাতালের শয্যা রয়েছে ১২১টি। গতকাল সেখানে রোগী ভর্তি ছিলেন ৩ জন। আর মহানগর হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ৬৬টি। এতে রোগী ভর্তি আছেন ১৬ জন। জানা গেছে, এই দুটি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে নতুন রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। গত মাসের মাঝামাঝি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শয্যা খালি থাকায় হাসপাতালের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন।

বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আক্রান্তদের একটি বড় অংশের লক্ষণ ও উপসর্গ থাকে মৃদু। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। মূলত যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদেরই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। বাংলাদেশে মোট চিকিৎসাধীন রোগীর মাত্র ৪ শতাংশ হাসপাতালে সেবা নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অবস্থা গুরুতর হওয়ার পরও অনেকে হাসপাতালে যাচ্ছেন না।

করোনা রোগী না থাকলে শয্যাগুলো ফেলে রাখার মানে নেই। এই হাসপাতালগুলো করোনা রোগীদের সেবা দিতে প্রস্তুত আছে। রোগীর চাপ বাড়লে এই হাসপাতালগুলোতেই চিকিৎসা শুরু করতে সমস্যা হবে না। আর কোভিড চিকিৎসা তুলে দিলে নন-করোনা রোগীরা সুবিধা পাবেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, করোনা রোগী না থাকলে শয্যাগুলো ফেলে রাখার মানে নেই। এই হাসপাতালগুলো করোনা রোগীদের সেবা দিতে প্রস্তুত আছে। রোগীর চাপ বাড়লে এই হাসপাতালগুলোতেই চিকিৎসা শুরু করতে সমস্যা হবে না। আর কোভিড চিকিৎসা তুলে দিলে নন-করোনা রোগীরা সুবিধা পাবেন।

৫৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ পরীক্ষা

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ২০৪টি, যা গত ৫৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই ১৫ হাজার ৬৩২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। গত জুন মাসে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্তের কারণে পরীক্ষার সংখ্যা আরও কমে এসেছে। দুই মাস ধরে দৈনিক ১০ থেকে ১৩ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশসহ ২২টি দেশে দুই লক্ষাধিক কোভিড-১৯ শনাক্ত রোগী রয়েছে। আক্রান্তের এই শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম করোনা পরীক্ষা হচ্ছে বাংলাদেশে। দেশে প্রতি ১০ লাখে ৯ হাজার ৫৬৩ জনের পরীক্ষা হচ্ছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সর্বনিম্ন এই স্থানে কখনো বাংলাদেশ, কখনো মেক্সিকো থাকত। কিন্তু পরীক্ষার সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশ মেক্সিকোর চেয়েও অনেকটা পিছিয়ে। মেক্সিকোতে প্রতি ১০ লাখে ১০ হাজার ৫৩০ জনের পরীক্ষা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন