বিজ্ঞাপন

এদিকে পিতৃহীন দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে টাকার আশায় বসে আছেন আলী হায়দার আবু এনামের স্ত্রী জেলিসা রহমান। আলী হায়দার আবু এনাম ও জেলিসা রহমান দম্পতির দুই সন্তান শাহ নূসরাত তাজরীন (২৩) ও শাহ তাজোয়ার আহমেদ আবরার (২১)। দুজনই শিক্ষার্থী। ক্ষতিপূরণের টাকার আবেদনকারীও এ দুজন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন পল্লবীতে মরহুম আলী হায়দার আবু এনামের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা। ডিএনসিসির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী যে ওয়ারিশান সনদপত্র দিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে, ‘তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন। এ দুজন ছাড়া মরহুমের আর কোনো ওয়ারিশান নেই।’

আইন অনুযায়ী আলী হায়দার আবু এনামের স্ত্রী জেলিসা রহমানও ক্ষতিপূরণের ভাগীদার হওয়ার কথা। কিন্তু পেনশনের টাকার নমিনি হিসেবে আলী হায়দার আবু এনাম কোনো কারণে তাঁর দুই সন্তানের নাম লিখে গেছেন, স্ত্রীর নাম উল্লেখ করেননি। এ বিষয় বিবেচনায় রেখেই পুলিশ ও র‍্যাব কার্যালয় ক্ষতিপূরণের টাকার ভাগীদারও দুই সন্তানই হবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

জেলিসা রহমানের সঙ্গে গতকাল শনিবার মোবাইল ফোনে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বলছিলেন, ‘আমার দুই সন্তান এখন খুবই কষ্টে আছে। তাদের বাবা পেনশনের টাকার নমিনি আমাকে করে যাননি বলে ক্ষতিপূরণের টাকাও আমি পাব না ঠিক আছে। আমার দুই সন্তান তো পাক। এই টাকা পেতে দেরি হচ্ছে বলে আমরা খুব মনঃকষ্টে আছি।’

একইভাবে ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য ঘুরছে র‍্যাব-১১–তে কর্মরত অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মো. মোসলেম উদ্দিন মৃধার পরিবার। মোসলেম উদ্দিন ছিলেন ১৬তম গ্রেডের ব্যাটালিয়ন আনসার। তিনি মারা যান গত বছরের ১০ জুলাই। নীতিমালা অনুযায়ী তাঁর পরিবার পাওয়ার কথা ২৫ লাখ টাকা। মোসলেম উদ্দিন রেখে গেছেন স্ত্রী শাহনাজ আক্তার, চার মেয়ে তাহমিনা আক্তার, নূপুর বেগম, সোনিয়া আক্তার, ফাতেমা তাবাসসুম এবং এক ছেলে তারিকুল ইসলামকে।
এ ছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বাংলাদেশ পুলিশের একজন দুই স্ত্রী রেখে গেছেন বলে অর্থ পরিশোধে জটিলতায় রয়েছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সম্মুখযোদ্ধাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩২ জন ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পুলিশ, সংখ্যা ৬৮। এ ছাড়া চিকিৎসক ১৩ জন, নার্স ১৮ জন, কর্মকর্তা ১৫ জন এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ৮ জন। মোট খরচ হয়েছে ৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এ সংখ্যা ও টাকার অঙ্ক গত ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। গত কয়েক দিনে আরও কয়েকটি পরিবার বরাবর ক্ষতিপূরণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। সূত্রগুলো জানায়, এ বিভাগ ইচ্ছা করে কিছু ফেলে রাখছে না। অনেকে অসম্পূর্ণ আবেদনও করছে।

কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের সেবায় সরাসরি কর্মরত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্য কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে গত বছরের ২৩ এপ্রিল অর্থ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে। ওই অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৫০০ কোটি এবং চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি চাকরিজীবী যাঁরা নিজেরা আক্রান্ত হবেন বা মারা যাবেন, তাঁদের জন্য গ্রেড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এর পরিমাণ ৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে ৫ লাখ টাকা ও মারা গেলে ২৫ লাখ টাকা, ১০ থেকে ১৪তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও মারা গেলে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে ১০ লাখ টাকা এবং মারা গেলে ৫০ লাখ টাকা পাবেন।

আরও বলা আছে, আবেদনকারীর নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠাবে। পরে অর্থ বিভাগ ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়ার সরকারি আদেশ জারি করবে।

এ ক্ষতিপূরণ প্রচলিত অন্য যেকোনো প্রজ্ঞাপন বা আদেশে বর্ণিত কর্মকালে মৃত্যুবরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তা বা অনুদানের অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হবে।

যদিও এখন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকেই ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হচ্ছে। নীতিমালায় বলা থাকলেও রিজেন্ট ও জেকেজি কেলেঙ্কারিতে ভুয়া করোনা পজিটিভের ঘটনা ধরা পড়ার পর থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না। আবার প্রজ্ঞাপনও সংশোধন করা হয়নি।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন