বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মাস্ক পরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে কষ্ট হয়। মাস্ক পরে অফিস-আদালতে কাজ করা যায়, বাসে নয়।
মিজানুর রহমান, বাসের চালকের সহকারী

কেন মাস্ক ব্যবহার করছেন না, জানতে চাইলে পোস্তগোলা থেকে মোহাম্মদপুরগামী টি থ্রি পরিবহনের চালকের সহকারী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাস্ক পরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে কষ্ট হয়। মাস্ক পরে অফিস-আদালতে কাজ করা যায়, বাসে নয়।’

১০টি বাসের মধ্যে ৩টির ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, বেশির ভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক ব্যবহার না করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে যাত্রীদের কেউ বলেন, মুখ থেকে পড়ে গেছে। কেউ বলেন, ভুলে গেছেন। আবার কেউ বলেন, খুলে পকেটে রেখেছেন।

ওয়েলকাম পরিবহনের যাত্রী সাদ্দাম হোসেনের মুখে মাস্ক দেখা যায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাত্রীরা মাস্ক পরল কি পরল না, সেটা দেখার কেউ নেই। চালকের মুখে মাস্ক নেই, ভাড়া নিতে আসা চালকের সহকারী মাস্ক পরেন না। আর যাত্রীদের অনেকেই এ ব্যাপারে উদাসীন।’ তিনি বলেন, ‘পাশের সিটের যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক পরতে বললে উল্টো যুক্তি দেখান।’

করোনার নতুন ধরন অমিক্রনের সংক্রমণ রোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত সোমবার কিছু বিধিনিষেধ দেয়। গত বৃহস্পতিবার এ বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। বিধিনিষেধে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করবে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ। রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেতে হলে দেখাতে হবে টিকার সনদ।

রেস্তোরাঁ-বাজারে নেই বিধিনিষেধের বালাই

গণপরিবহনের মতোই বিধিনিষেধ উপেক্ষিত দেখা যায় রাজধানীর রেস্তোরাঁ, বাজার ও বিপণিবিতানে। গতকাল আজিজ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে কথা হয় ব্যবস্থাপক মো. মাইনউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোর কাছে অকপটে স্বীকার করলেন খেতে আসা ব্যক্তিদের কাছে টিকা সনদ দেখতে চান না তাঁরা। টিকার সনদ দেখাতে বললে অনেকে বিরক্ত হয়ে না খেয়ে চলে যান।

যাত্রীরা মাস্ক পরল কি পরল না, সেটা দেখার কেউ নেই। চালকের মুখে মাস্ক নেই, ভাড়া নিতে আসা চালকের সহকারী মাস্ক পরেন না। আর যাত্রীদের অনেকেই এ ব্যাপারে উদাসীন।
যাত্রী সাদ্দাম হোসেন

তবে সনদ দেখে খাবার পরিবেশনের কথা বললেন শাহবাগের একটি রেস্তোরাঁর মালিক ইরাক মল্লিক। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় রেস্তোরাঁয় তিন ব্যক্তিকে খেতে দেখা যায়। তাঁদের টিকার সনদ দেখা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ইরাক মল্লিক বলেন, ‘এঁদের সনদ দেখা হয়নি।’

রাজধানীর রামপুরা ও হাতিরপুল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বিক্রেতাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। মানা হচ্ছে না দূরত্ববিধি।

হাতিরপুল সবজি, ফল, মাছ ও মুরগির ২০টি দোকান ঘুরে দেখা যায়, একজন মাছ ও একজন সবজি বিক্রেতার মুখে মাস্ক আছে। সবজি বিক্রেতা আব্বাস শিকদার বলেন, সব সময় মাস্ক পরা হয় না। তবে ক্রেতা এলে তখন মুখে মাস্ক পরেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় একজন ক্রেতা এলেন দোকানে। পরে টাকা রাখার বাক্স থেকে মাস্ক বের করে কথা বলা শুরু করলেন তিনি।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন