আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, চকবাজার, কাজীর দেউড়ি, নিউমার্কেট মোড়, জিইসি মোড়, জুবিলী রোড, কোতোয়ালি মোড় ও টেরিবাজার ঘুরে এ অবস্থা দেখা গেছে।

এসব এলাকায় সব ধরনের বিপণিবিতান, দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। নগরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসেছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তৎপরতা দেখা গেছে। নগরের বিভিন্ন মোড়ে রেডক্রিসেন্টের সদস্যদের মানুষকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে এবং করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে মাইকিং করতে দেখা গেছে।

বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের কাজীর দেউড়ি মোড়ে দেখা গেছে, রিকশার করে যাচ্ছিলেন মো. আবদুল বাতেন ও মো. সবুজ। এই সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক ঘর থেকে বের হওয়ার কারণ জানতে চান। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় বিধিনিষেধ অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় দোকানমালিকদের জরিমানা করা হয়।
জরিমানার শিকার আবদুল বাতেন বলেন, নগরের মুরাদপুর এলাকায় তাঁর এক বন্ধু অসুস্থ। তাঁকে দেখতে যাচ্ছিলেন—এ কথা বলার পরেও ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করেছেন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, অনেকে অযথা ঘর থেকে বের হয়েছেন। জিজ্ঞাসা করলে নানা অজুহাত দেন। বিধিনিষেধের মধ্যে ঘর থেকে বের হওয়ায় কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

কঠোর বিধিনিষেধে বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বরত আছেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর সদস্যরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছেন। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিও দায়িত্ব পালন করছে।

নগরের নিউমার্কেট মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। এ সময় চেকপোস্ট দিয়ে আসা রিকশার যাত্রী, মোটরসাইকেলচালক ও ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এ সময় কয়েকজনের মুখে মাস্ক ছিল না। পুলিশ তাঁদের মাস্ক দেন। কাউকে কাউকে ১০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন ওবায়দুল হক (৫২)। তাঁর মুখে মাস্ক ছিল না। তিনি বলেন, তাঁর এক ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর জন্য ভাত নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মাস্ক ভিজে যাওয়ায় তা পরতে পারেননি।

নগর পুলিশের উপকমিশনার বিজয় বসাক বলেন, তুলনামূলকভাবে মানুষ ঘর থেকে কম বেরিয়েছেন। যেহেতু সবকিছু বন্ধ, তাই রাস্তাঘাটে মানুষ কম। আর বের হওয়া লোকজন জানিয়েছেন, তাঁরা প্রয়োজনে বের হয়েছেন। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের যাতায়াত নিয়ে একটু ঝামেলা ছিল। অনেক কারখানা গাড়ির ব্যবস্থা করেনি। এ কারণে পোশাককর্মীদের হেঁটে ও রিকশায় কারখানায় যেতে হয়েছে। এতে অনেক স্থানে জটলা ছিল।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন