default-image

চট্টগ্রামে রেকর্ড শনাক্ত আর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এপ্রিল মাস। করোনায় গত ১৩ মাসে এত মৃত্যু ও শনাক্ত আর দেখেনি চট্টগ্রাম। রেকর্ড ৯ হাজার ২৮৯ জন শনাক্ত হয়েছে এপ্রিল মাসে। মৃত্যু হয়েছে সর্বোচ্চ ১৩৬ জনের। মাসের শেষ দিনে গতকাল শুক্রবার মারা গেছেন চারজন।
 
একই দিনে নতুন আক্রান্ত হয়েছে ১৮৫ জন। শনাক্তের হার সাড়ে ১১ শতাংশ। আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এপ্রিল মাসে শনাক্ত ও মৃত্যু অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া জানান।

বিজ্ঞাপন

ভাইরাসটির নতুন ভেরিয়েন্টের সংক্রমণের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এ ভয়ংকর অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর জোর দেন চিকিৎসকেরা।

চট্টগ্রামে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয় এপ্রিলে। এ বছরের মার্চ থেকে শনাক্ত বাড়তে শুরু করলেও গত মাসে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। মৃত্যুও হু হু করে বাড়তে থাকে। মার্চ মাসে মোট শনাক্ত ছিল ৫ হাজার ২৮৪ জন। মৃত্যু হয়েছিল মাত্র ১৩ জনের।

এপ্রিলের প্রথম দিনেই রেকর্ড ৫১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ওই দিন মৃত্যুবরণ করেন একজন। ৯ এপ্রিল এক দিনে ৫২৩ জন শনাক্ত হয়ে এক সপ্তাহের মাথায় নতুন রেকর্ড হয়। দৈনিক এবং মাসভিত্তিক মৃত্যুতেও এপ্রিল সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। ১০ এপ্রিল এক দিনে সর্বোচ্চ নয়জনের মৃত্যু হয়। সেই রেকর্ড ভেঙে ২৫ এপ্রিল এক দিনে মারা যান ১১ জন। শেষ পর্যন্ত এক মাসে মারা যান রেকর্ড ১৩৬ জন।

এর আগে করোনার শুরু থেকে চট্টগ্রামে সবচেয়ে মহামারি অবস্থা ছিল গত বছরের জুন জুলাই মাসে। ওই সময় মৃত্যু এবং সংক্রমণ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। শনাক্তের সংখ্যা ও হারের দিক থেকেও তা বেশি ছিল। জুন মাসে মোট মারা যান ১০৩ জন। সে মাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫ হাজার ৮৮৩ জন। জুলাই মাসে মৃত্যু হয়েছিল ৫৫ জনের। আক্রান্ত হন ৫ হাজার ৩২৭ জন। আগস্ট মাসে আক্রান্ত ছিল ২ হাজার ৬৬০ জন। মৃত্যু হয় ৩৯ জনের।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ওই তিন মাসে দৈনিক শনাক্তের হারও ছিল ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে। এবারও শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ ছুঁয়েছে এপ্রিলের মাঝামাঝি, ১৭ এপ্রিল। এ ছাড়া প্রতিদিন গড়ে তা ছিল ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে। শেষ সপ্তাহে এসে তা শনাক্ত হার ১২ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করতে থাকে।

এত সংক্রমণ এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসকেরা ভাইরাসটির নতুন ধরনের দ্রুত বিস্তার এবং ধ্বংসের ক্ষমতাকে দায়ী করছেন। চট্টগ্রামের একমাত্র বিশেষায়িত কোভিড-১৯ চিকিৎসাকেন্দ্র জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. আবদুর রব প্রথম আলোকে বলেন, এই ধরনের বিস্তার এবং ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা খুব বেশি। এ কারণে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যু বাড়ছে। রোগীর অবস্থাও খারাপও হয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত।

এপ্রিলের শেষ দিনে এসে চট্টগ্রামে মোট করোনা রোগী শনাক্ত ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৫০ হাজার হাজার ৯০ জন জন আক্রান্ত হয়েছেন। মোট মারা গেছেন ৫২৪ জন। এর মধ্যে শহরের ৩৮৯ জন এবং উপজেলার বাসিন্দা ১৩৫ জন। সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হলেও মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব বেশি। করোনায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৫৫ শতাংশ।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন