default-image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে গতকাল রোববার সারা দেশে শুরু হয়েছে গণ টিকাদান কর্মসূচি। বহু প্রতীক্ষিত গণ টিকাদান কর্মসূচি ঘিরে কয়েকটি ঘটনা জন্ম দিয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও এ নিয়ে কথা হয়েছে। কিছু ঘটনা হাসির খোরাক জুগিয়েছে। আবার কোনো কোনো ঘটনা যেন আর না ঘটে, তা নিয়েও মত এসেছে। কোনো কোনো ঘটনায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন কেউ কেউ।

প্রথম দিনেই করোনা টিকা দিতে অনেকে এসেছেন দলবল নিয়ে। মানেননি সোশ্যাল ডিসটেন্সিং। এ ছাড়া নার্স নয়, বরং ইনজেকশন হাতে তুলে নিয়েছেন একজন উপজেলা চেয়ারম্যান। পুশ করেছেন অন্যজনের গায়ে। তা ছাড়া নারী সাংসদ টিকা দেওয়ার নাম করে করেছেন ফটোসেশন।

বিজ্ঞাপন

সোশ্যাল ডিসটেন্সিংয়ের বালাই নেই

সারা দেশের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভিভিআইপি ও ভিআইপিরা টিকা নিতে এসেছিলেন, সঙ্গ দিতে এসেছিলেন একদল লোক। সোশ্যাল ডিসটেন্সিং মানেননি তাঁরা, মানেননি অনেকেই।

যদিও ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সোশ্যাল ডিসটেন্সিং, মাস্ক পরা আগের মতোই অনুসরণ করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোশ্যাল ডিসটেন্সিং না মানার সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনা ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টিকা নেওয়ার ঘটনাটি। সেই ছবিটি ভাইরালও হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, জায়গা পায় সংবাদমাধ্যমেও।

রোববার সকালে মহাখালী শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে করোনার টিকা নিয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁকে ঘিরে ছিলেন প্রায় ৩০ জন ব্যক্তি।

default-image

নার্সের বদলে টিকা দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানকার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান খানের টিকা পুশের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

মোট তিনজনের শরীরে করোনার টিকা পুশ করেছেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রশিক্ষিত নার্স।

প্রশিক্ষিত নার্সের বদলে একজন জনপ্রতিনিধির টিকা দেওয়ার বিষয়কে খুবই ভয়ানক বলে দাবি করেছেন চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

টিকাকেন্দ্রে গিয়ে সাংসদের ফটোসেশন

রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকের ঘটনা, ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

বিজ্ঞাপন
default-image

টিকাকেন্দ্রে গিয়ে ফটোসেশন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদ।

সাংসদ উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি জাতীয় সংসদ ভবনে টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এ কারণে এখানে তিনি টিকা নেননি।
মূলত টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম।

সাংসদ টিকা নেওয়ার ভাব করে ছবি তোলেন। সাংসদের এমন ফটোসেশনের ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এমনকি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা সাংসদের এমন আচরণকে বলেন ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াংকা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নোমান মিয়া, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম, সরাইল সদর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার, সংবাদকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মীসহ শতাধিক ব্যক্তি।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন