default-image

মুখে মাস্ক লাগিয়ে কাজীর দেউড়ি বাজার থেকে বের হয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধটি। নাম মো. দানা মিয়া। বয়স আশি পেরিয়েছে। কথা বলতে চাইলে তিনি থামলেন। টিকা দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে কিছুটা অবাক হলেন। একটু চিন্তা করে বললেন, কিসের টিকা? করোনাভাইরাসের টিকা বলার পর কিছুটা ভেবে বললেন, ‘কই, কেউ তো বলেনি আমাকে।’

দানা মিয়ার বাড়ি হাটহাজারীর গুমানমর্দন এলাকায়। বয়স হলেও এখনো নিজে নিজেই সবকিছু করেন তিনি। কৃষিকাজ করেন বাড়িতে। শহরে এসেছেন চার দিন হয়। ছেলের বাসা কাজীর দেউড়ির এক নম্বর গলিতে। সেখানে ছেলের বউ এবং নাতি-নাতনি রয়েছে। বেড়াতে এসেছেন দানা মিয়া।

বিজ্ঞাপন

আজ রোববার সকালে কাজীর দেউড়ি বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাসার দিকে ফিরছিলেন এই বৃদ্ধ। তখন কথা হয় তাঁর সঙ্গে। জানালেন, করোনাভাইরাসের কথা তিনি শুনেছেন। সে জন্য মাস্ক ব্যবহার করছেন ঘর ও পাড়াপ্রতিবেশীর কথায়। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসের টিকার কথা তাঁর কান পর্যন্ত এখনো পৌঁছায়নি। ইতিমধ্যে করোনার টিকার নিবন্ধনও শেষ হয়ে গেছে চট্টগ্রামে।

শহরে বা উপজেলায় কোথাও নতুন করে টিকার জন্য নিবন্ধন করা যাচ্ছে না।

দানা মিয়া বলেন, ‘আমাকে বাড়িতেও কেউ ইনজেকশনের (টিকা) কথা বলেনি। এখানেও কেউ বলেনি। এমনি মাস্ক ব্যবহার করতে বলেছে সবাই। করছি।’

‘ছেলে বিদেশে থাকে। শহরের বাসায় ছেলের বউও এখনো টিকা দেয়নি। এ নিয়ে কোনো আলোচনাও শুনিনি।’ বললেন দানা মিয়া।

দানা মিয়া আবার নিজের বাড়িতে ফিরবেন দু–এক দিনের মধ্যে। বাড়িতে গিয়ে টিকা কীভাবে দেওয়া যায় খোঁজ নেবেন বলে জানালেন। যদি পাওয়া যায়, তাহলে টিকা নেবেন বলেও জানান তিনি।

দানা মিয়ার মতো চট্টগ্রামের এ রকম প্রান্তিক লোকজন, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত অনেকেই টিকার খবর জানেন না। কেবল শহর ও উপজেলা সদরের সচেতন কিছু মানুষের মধ্যে টিকার বিষয় এখনো সীমাবদ্ধ বলে অনেকে মনে করছেন।

তবে সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি মনে করছেন, মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। নতুন করে আরও টিকা আসবে। উপজেলায় প্রচারণাও রয়েছে। বছরব্যাপী টিকা কার্যক্রম চলবে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাই টিকা পাবেন।

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন