বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গবেষণায় সেরোপজিটিভিটি (রক্তে সার্স কোভ-২–এর অ্যান্টিবডির উপস্থিতি) সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর হাতে এসেছে।

সিভাসুর উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ এ জরিপ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া সিভাসুর অধ্যাপক শারমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক এম এ হাসান চৌধুরী, চিকিৎসক জাহান আরা, সিরাজুল ইসলাম, তারেক উল কাদের, আনান দাশ, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ইয়াসির হাসিব, তাজরিনা রহমান ও সীমান্ত দাশ গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

default-image

গবেষণায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ৭৪৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁরা করোনার ঝুঁকিতে ছিলেন। এর মধ্যে সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, রোগীর অভিভাবক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও পোশাকশ্রমিকেরা ছিলেন। গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ জরিপ গবেষণা চলে।

৬ মাসের বেশি ছিল অ্যান্টিবডি

গবেষণায় দেখা যায়, মোট ৭৪৬ জনের মধ্যে প্রায় ২২৩ জন (৩০ শতাংশ) কোভিড-১৯ টিকার শুধু প্রথম ডোজ নিয়েছেন। উভয় ডোজ নিয়েছেন ২৩১ জন (৩১ শতাংশ) আর টিকা নেননি ২৯২ জন (৩৯ শতাংশ)। করোনার টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের ৬২ শতাংশের মধ্যে অ্যান্টিবডির অস্তিত্ব মিলেছে। উভয় ডোজ গ্রহণকারী ৯৯ শতাংশের বেশির ভাগের মধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে অ্যান্টিবডি ছিল।

অধ্যাপক এম এ হাসান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, অনেকে উপসর্গহীনভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে যে ৫০ শতাংশের অ্যান্টিবডি রয়েছে, তাঁরা যে আক্রান্ত ছিলেন, হয়তো তা টেরই পাননি। কিন্তু তাঁদের অ্যান্টিবডি দীর্ঘস্থায়ী না–ও থাকতে পারে। টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে অ্যান্টিবডি বেশি পাওয়া গেছে।

কোন ডোজে কত অ্যান্টিবডি

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা টিকা গ্রহণ করেননি, তাঁদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে সার্স কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি (IgG) তৈরি হয়েছে (গড়ে ৫৩.৭১ ডিইউ/মিলি), এর চেয়ে গড়ে প্রায় তিন গুণ বেশি অ্যান্টিবডি (১৫৯.০৮ ডি ইউ/মিলি) তৈরি হয়েছে যাঁরা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের শরীরে। আবার তাঁদের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অ্যান্টিবডি (২৫৫.৪৬ ডি ইউ/মিলি) পাওয়া গেছে যাঁরা উভয় ডোজ গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে।

গবেষকেরা মনে করেন, চলমান টিকার আওতায় সবাইকে আনতে হবে। আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী নয়। সিভাসুর উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, টিকা সবাইকে নিতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার ছয় মাস পরও কোভিড-১৯ সুরক্ষা দেওয়ার মতো অ্যান্টিবডি পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।

দ্বিতীয় মাসে অ্যান্টিবডি হ্রাস পায় ২৫ শতাংশ

default-image

জরিপে আরও দেখা গেছে, টিকার প্রথম ডোজের পর প্রথম মাসে গড়ে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি শরীরে বিদ্যমান থাকে (১৭৫.১ ডি ইউ/মিলি), তার প্রায় ২৫ শতাংশ হ্রাস পায় দ্বিতীয় মাসে এসে। তবে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার পর অ্যান্টিবডির পরিমাণ সময়ের সঙ্গে হ্রাস পাওয়ার প্রবণতায় ভিন্নতা দেখা যায়। উভয় ডোজ নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে গড়ে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি থাকে (৩২৪.৪২ ডি ইউ/মিলি), চতুর্থ মাসে এসে তার প্রায় ২১ শতাংশ কমে যায়। কিন্তু ষষ্ঠ মাসে এসে তা চতুর্থ মাসের মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পায়।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন