default-image

১৯ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষার্থী আবদুল কাদের। রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকা থেকে বের হয়েছেন জুতা কিনবেন বলে। অথচ তাঁর মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়েন এই শিক্ষার্থী। আদালতের কাছে তিনি দিচ্ছিলেন মাস্ক না পরার নানা ছুতা। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

মিরপুরের ১০ নম্বরের গোল চত্বরে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার চিত্র এটি। মাস্ক না পরে ঘোরাফেরা করায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ নানা পেশার মানুষকে এ সময় জরিমানা করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালানো হয়।
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে বিধিনিষেধ আরোপের আজ চতুর্থ দিন। সরকারি নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরা, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই তা মানছেন না। বিধিনিষেধ আরোপ করতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও এলাকাতে আজও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। তবে অভিযানের পরও মানুষের জনসমাগম কমানো যায়নি। সরকারি নির্দেশনা মানতেও অনীহা দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের মুখে পড়লে নগরবাসী নানা ছুতা দেখাচ্ছেন। কেউ মাস্ক পরতে ভুলে গেছেন, কেউ বাসায় রেখে এসেছেন, কেউ–বা পকেটে মাস্ক রেখেই ঘুরছেন। কারও অজুহাত, পান খাওয়ার জন্য মাস্ক খুলে রেখেছেন।

তেমনই একজন সেনপাড়ার হোটেল লক্ষ্মীপুর ট্রেডিংয়ের মালিক মোজাম্মেল হোসেন। বিকেল চারটা পেরোলেও তাঁর দোকান খোলা ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে দেখে ঝাঁপি নামিয়ে দোকান বন্ধ করে ফেলেন। তবে ভুলে যান গলায় ঝুলন্ত মাস্ক মুখে পরতে। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে আদালতকে তাঁর জবাব, ‘পান খাচ্ছি, তাই মাস্ক নামিয়ে রেখেছি।’ আদালত বলেন, ‘মুখের মাস্ক পরে কি পান খাওয়া যায় না?’ এ সময় মোজাম্মেল হোসেনকে ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ২০১৮ সালের সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের বিধানে এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকেলে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর, সেনপাড়া পর্বতা ও আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যবিধিবিষয়ক অভিযান পরিচালিত হয়। বিকেল চারটায় দোকান বন্ধ করার কথা থাকলেও এই সরকারি নির্দেশনা অনেকেই মানছিলেন না। তেমনই একটি দোকান সেনপাড়ার মুসলিম সুইটস অ্যান্ড বেকারি। সময়সীমার পরও দোকান খোলা রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকানমালিককে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। মালিক প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের দাবি, দোকানের হিমায়িত খাবারগুলো রেফ্রিজারেটরে রাখতে সময় লাগে। দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. জাকির। গোল চত্বর পদচারী সেতু দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাঁর মাস্ক ছিল, তবে থুতনিতে। মাস্কটিও অতিব্যবহারে বিবর্ণ। এই অপরাধে তাঁকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি না মানা, সরকারি বিধিনিষেধের নির্দেশনা না মানার কারণে ১০টি মামলা হয়। এসব মামলায় ১০ জনকে ৪ হাজার ৫৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় অসচ্ছলদের মধ্যে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণও করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অধিকাংশ মানুষ মাস্ক পরছেন। তবে অনেকের মাস্ক কাছে থাকলেও পকেটে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সতর্ক করা হচ্ছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রত্যেকের নিজ জায়গা থেকে সরকারি নির্দেশনা মানার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। আইন প্রয়োগ করে শতভাগ মাস্ক পরানো সম্ভব না। মানুষকে নিজ থেকে এসব নির্দেশনা মানতে হবে।

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন