default-image

দুই সপ্তাহ ধরে দেশে করোনার টিকাগ্রহীতার সংখ্যা দিন দিন কমছে। আজ মঙ্গলবার সারা দেশে করোনার টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০ জন। গতকাল সোমবার টিকা দেওয়া হয়েছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ জনকে।

আজ সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত করোনার টিকা নিয়েছেন ৩৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে নারী ১১ লাখ ৯১ হাজার ১৫০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, করোনার টিকা নেওয়ার জন্য আজ বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ৮২০ জন। এ পর্যন্ত টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে ৭৭৩ জনের মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৯৪৫ জনকে। এরপর প্রতিদিনই ১০ থেকে ১৫ হাজার করে সংখ্যা কমছে।

শুরুর দিকে করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন ও দৈনিক টিকাগ্রহীতার সংখ্যা কম ছিল। টিকাদান শুরুর দ্বিতীয় সপ্তাহে দৈনিক টিকাগ্রহীতার সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওই সময় দৈনিক নিবন্ধনও হচ্ছিল আড়াই লাখের কাছাকাছি। কিন্তু সাত দিন ধরে দেশে করোনার টিকাগ্রহীতার সংখ্যা কম। টিকা পাওয়ার জন্য নিবন্ধনও কম হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে এখনো কিছুটা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। যাঁদের টিকা নিয়ে উৎসাহ ছিল, তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিবন্ধন করে টিকা নিয়েছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোকজন টিকার নিবন্ধন করছেন কম।

বিজ্ঞাপন

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, টিকা নিয়ে যাঁদের মধ্যে ভয় রয়েছে, তাঁদের অনেকে এখনো পরিস্থিতি আরেকটু দেখতে চাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত যাঁরা টিকে নিয়েছেন, তাঁরা মূলত শহরকেন্দ্রিক। গ্রামের লোকজনের কাছে এখনো পৌঁছানো যায়নি। শহরের বস্তিবাসীও টিকার আওতায় আসতে পারেননি। তিনি মনে করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাধ্যমে জনগণকে টিকা নেওয়ার বার্তা দিতে হবে।

দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৫২ জন করোনার টিকা নেন। এ সময় টিকা পাওয়ার জন্য দৈনিক নিবন্ধন করেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৬ জন। টিকাদান শুরুর দ্বিতীয় সপ্তাহে দৈনিক টিকাগ্রহীতা ও নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।

১৫ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক গড়ে টিকা নেন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ জন। এ সময় টিকা পাওয়ার জন্য দৈনিক গড়ে নিবন্ধন করেন ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৮৫ জন। দেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ টিকা দেওয়া হয়েছে ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন মোট ২ লাখ ৬১ হাজার ৯৪৫ জন করোনার টিকা নেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত টিকাগ্রহীতা ও নিবন্ধন—দুটিই কমতে শুরু করেছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত দিনে গড়ে টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ১২৬ জন। এ সময়ে দৈনিক গড়ে নিবন্ধন করেছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ছুটির দিন থাকায়, টিকা কার্যক্রম চলেনি।
গত ৯ ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে কম টিকা নিয়েছেন আজ। সারা দেশে আজ ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাসহ সারা দেশে ১ হাজারের বেশি হাসপাতালে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ হাসপাতালে একাধিক বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বুথে দিনে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে টিকা দেওয়ার সক্ষমতা আছে। কোনো হাসপাতালে এক দিনে কতজনের টিকা দেওয়া হবে, সেটি নির্ভর করে বুথের সংখ্যার ওপর।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে টিকা নেন ১ হাজার ৩৫২ জন। আজ সেখানে টিকা নিয়েছেন ৩৯৮ জন।

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন