default-image

১৪ বছর পর ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার নরবালাখানা গ্রামের মনষা কর্মকার। আগামী এপ্রিলে তাঁর ইতালিতে ফেরার কথা। তার আগে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা নিতে চান তিনি। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় টিকার নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন না মনষা। তাই টিকাও পাচ্ছেন না। মনষার মতো এই সমস্যায় পড়ে অনেক প্রবাসীই এই মুহূর্তে টিকা নিতে পারছেন না।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে তাঁদের কোনো সমাধান দিতে পারছেন না। আর জেলা নির্বাচন কার্যালয় বলছে, আগামী মাস থেকে নতুন পরিচয়পত্র করার কার্যক্রম শুরু হবে।

মনষা ইতালি থেকে দেশে ফেরেন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যক্তিগত কাজে ভারতে যান। করোনায় লকডাউন থাকায় সেখানে বেশ কিছুদিন আটকে থাকেন। এরপর ভারত থেকে দেশে ফিরেই জাতীয় পরিচয়পত্র করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলো। আমার পাসপোর্ট নিয়ে টিকাকেন্দ্রে ও স্বাস্থ্য বিভাগে ঘুরেছি। কিন্তু টিকার জন্য নিবন্ধন করাতে পারিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ছাড়া নিবন্ধন করা যায় না। পাসপোর্টের নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করার সুযোগ না রাখায় আমার মতো অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।’

জানতে চাইলে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আবদুল্লাহ আল মুরাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে টিকা নেওয়ার নিবন্ধন করতে হবে। সেখানে অন্য কোনো বিকল্প রাখা হয়নি। অনেক প্রবাসী আমাদের কাছে টিকা নিতে আসছেন, কিন্তু নিবন্ধন না হওয়ায় আমরা তাঁদের টিকা দিতে পারছি না।’

বিজ্ঞাপন

মনষার মতো বিপাকে পড়েছেন নড়িয়ার মশুরা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর মল্লিক। তিনি সৌদি আরব থেকে ২০ বছর পর দেশে ফিরেছেন গত ১৭ জানুয়ারি। মল্লিক যখন সৌদি আরব গিয়েছিলেন, তখন দেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রচলন ছিল না। ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি টিকা নিতে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় টিকার নিবন্ধন করতে পারেননি, টিকাও নিতে পারেননি। তিনি প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, শরীয়তপুরের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকেন। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র করাতে পারেননি। এখন দেশে ফিরেও বিভিন্ন কারণে জাতীয় পরিচয়পত্রও করাতে পারছেন না। তাঁর প্রশ্ন, কেন তাঁরা টিকা নিতে পারবেন না?

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, শরীয়তপুরে প্রথম ধাপে ৩৬ হাজার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ১১ হাজার ৫৭৩ ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া হয়েছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল, পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও জেলা পুলিশ হাসপাতালে টিকা দেওয়ার কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। আর সাধারণ মানুষের নিবন্ধনে সহায়তা করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে নিবন্ধন বুথ চালু করা হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য অনেক প্রবাসী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে তাঁরা সংখ্যায় কত, তার কোনো পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। আগামী মার্চ থেকে নতুন পরিচয়পত্র করার কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

এই পরিস্থিতিতে টিকা নিতে বিপাকে থাকা প্রবাসীদের জন্য কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই কিন্তু পাসপোর্ট আছে, তাঁদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন