বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সংক্রমণের হার বিবেচনায় জেলার মধ্যে কালিয়া উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এ উপজেলায় গত ১৫ দিনের মধ্যে ১১ দিনই সংক্রমণ ৫০ থেকে ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। বাকি চার দিন এটি ছিল ৩৫ শতাংশের ওপরে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১১ জুন জেলায় সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ওই মাসের শেষ ২০ দিনের মধ্যে ১৫ দিনই সংক্রমণ ৩৫ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর ১ জুলাই থেকে আজ ১৬ জুলাই পর্যন্ত ১৬ দিনের মধ্যে ৭ দিনই সংক্রমণ ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। বাকি ৯ দিন সংক্রমণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ছিল।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুয়ায়ী, গত এক সপ্তাহের মধ্যে ৯ জুলাই সংক্রমণ ছিল সর্বোচ্চ ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এরপর ১০ জুলাই ৩০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ১১ জুলাই ৪৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ১২ জুলাই ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ১৩ জুলাই ৪০ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ১৪ জুলাই ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ, ১৫ জুলাই ৩৪ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সবশেষ আজ সংক্রমণ ৩০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার বিবেচনায় জেলার মধ্যে কালিয়া উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এ উপজেলায় গত ১৫ দিনের মধ্যে ১১ দিনই সংক্রমণ ৫০ থেকে ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। বাকি চার দিন এটি ছিল ৩৫ শতাংশের ওপরে।

মানুষের সচেতনতার অভাবে এ উপজেলায় এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কাজল মল্লিক। তিনি বলেন, এখানকার মানুষ নমুনা পরীক্ষা করতে চান না, স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না। আক্রান্ত হলেও হাসপাতালে আসছেন শেষ মুহূর্তে। তখন চিকিৎসা করার মতো সময় থাকছে না। তবে যাঁরা মারা যাচ্ছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত অন্যান্য রোগেও আক্রান্ত ছিলেন।

জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জুন থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত এক মাসেই ৪৪ জন মারা গেছেন। জুনের শেষ ১৫ দিনে মারা গেছেন ১৬ জন। আর জুলাইয়ের ১৬ দিনে ৩১ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে গত ১৬ দিনে নড়াইল সদর উপজেলায় মারা গেছেন ২০ জন।

গত বছরের ৭ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ১৬ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ১২ হাজার ৩৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৩ জনের। এর মধ্যে ১১ জুন থেকে আজ পর্যন্ত, ৩৬ দিনে ১ হাজার ৬৬৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন নাছিমা আকতার বলেন, ডেলটা ভেরিয়েন্টের কারণে সংক্রমণ বেশি, তাই মৃত্যুও বেশি। তবে সার্বিকভাবে জেলার সংক্রমণের সংখ্যা বেশি হলেও গত এক সপ্তাহে সংক্রমণের হার কমেছে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন