বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মধ্য ইউরোপের ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশ জার্মানিতে গত এপ্রিল মাসে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পার্লামেন্টে নতুন করে সংক্রমণ সুরক্ষা আইন পাস করা হয়। সেই আইনে লকডাউন ব্যবস্থা বহাল, বেশি সংক্রমণের এলাকাগুলোতে রাতে কারফিউসহ স্কুল বন্ধ এবং মানুষের মেলামেশায় কড়াকড়িসহ কঠোর বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। কিন্তু জার্মানিতে বিগত মাসগুলোতে করোনা সংক্রমণ কমে এলে নানা সুরক্ষা আইন শিথিল করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগনিরাময় বিশেষজ্ঞরা আসন্ন বড়দিন উৎসবের আগেই করোনা সংক্রমণে লাগাম টানতে আরও কঠোর সুরক্ষাব্যবস্থার কথা বলেছেন। করোনা মহামারির শুরু থেকে জার্মানিতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, আর মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার মানুষের।

গতকাল মঙ্গলবার জার্মানির স্বনামধন্য ভাইরোলজিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ড্রস্টেন বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি এখনই কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে জার্মানিতে আরও বেশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে এবং আরও লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। এই বিশেষজ্ঞের মতে, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি গত বছরের চেয়ে খারাপ। কারণ, গত বছর এই সময় কঠোর লকডাউন ছিল।

জার্মানিতে সবার জন্য করোনার টিকার বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ক্রিশ্চিয়ান ড্রস্টেন। তিনি বলেন, জার্মানির মোট জনসংখ্যার অর্ধেককেও যদি টিকার বুস্টার ডোজের বিষয়ে উৎসাহিত করা যায়, তাহলে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। গত শনিবার পর্যন্ত জার্মানিতে প্রায় ২৭ লাখ মানুষ করোনার দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। আর দেশটিতে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ৫৯ লাখ মানুষকে, যা মোট জনসংখ্যার ৬৭ দশমিক ১ শতাংশ।

ফাইজার–বায়োএনটেকের করোনার টিকার অন্যতম আবিষ্কারক উগুর সাহিন ফ্রাঙ্কফুর্ট রন্ডসুউ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, টিকা দেওয়ার পর সপ্তম, অষ্টম বা নবম মাসে অ্যান্টিবডির মাত্রা কমতে শুরু করে এবং এতে করে করোনার সংক্রমণ ঘটতে পারে। তবে টিকার বুস্টার ডোজ ভাইরাস প্রতিরোধক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে, যা করোনার ডেলটা ধরনের ক্ষেত্রেও কাজ করে। বুস্টার টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রোগের ভয়াবহতা সাধারণত মাঝারি হয় এবং খুব কম ক্ষেত্রেই গুরুতর অসুস্থতা লক্ষ করা যায়।

জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়ান স্পান সবাইকে টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার পক্ষে বলেছেন। জার্মানিতে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সংগঠন লিওপোল্ডিনা আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জার্মানির নীতিনির্ধারকেরা করোনার চতুর্থ ঢেউয়ের বিষয়ে তেমন প্রস্ততি গ্রহণ করেননি। বিশেষজ্ঞরা টিকা নিতে অনীহা প্রকাশকারীদর বিষয়ে বাধ্যতামূলক টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর তুলনায় জার্মানিতে টিকা দেওয়ার ধীরগতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, জার্মানিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর এটিও একটি কারণ।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন