বিজ্ঞাপন

গত বছরের জুনে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর পর থেকে সেখানে করোনার উপসর্গ নিয়ে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই মারা গেছেন ২০ জন। একই সময়ে করোনার উপসর্গ নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে দুজন মারা গেছেন। একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালের বাইরেও বিভিন্ন গ্রাম থেকে তাঁদের কাছে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর খবর আসছে।

মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ৯০ শয্যার করোনা ওয়ার্ড রয়েছে। এ ছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের জন্য হাসপাতালের পুরোনো ভবনের তৃতীয় তলায় ৫০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন। এ ধরনের রোগীরা একদম শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছেন। অক্সিজেনের মাত্রা ৩৫–এ নেমে গেছে, এমন রোগীও এসেছেন।
বিকাশ কুমার শিকদার, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, মাগুরা সদর হাসপাতাল

আজ রোববার সরেজমিন দেখা যায়, আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগী হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আইসোলেশন ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। জ্বর, সর্দি, কাশি ও করোনার অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের প্রথমে এখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ এলে তাঁদের করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বিকাশ কুমার শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইসোলেশন ওয়ার্ডে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন। এ ধরনের রোগীরা একদম শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছেন। অক্সিজেনের মাত্রা ৩৫–এ নেমে গেছে, এমন রোগীও এসেছেন। সাধারণ মানুষ এটাকে সাধারণ জ্বর ভেবে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁরা এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে আসেন, যখন আমাদের আর তেমন কিছু করার থাকে না।’

বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের অন্তত চারজন চিকিৎসকের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁদের ভাষ্য হচ্ছে, উপসর্গ দেখা দিলেই মানুষকে নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। যত দ্রুত রোগী চিহ্নিত করা যাবে, সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি ততই কমে আসবে।

মাগুরা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের যেকোনো দিন জেলা সদর হাসপাতাল, শহরের নোমানী ময়দান ও তিন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যান্টিজেন ও আরটি-পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে।

জেলার মৃত্যুহার বাড়ার পেছনে মানুষের অসচেতনতা একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন জেলা সিভিল সার্জন শহীদুল্লাহ দেওয়ান। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর শুরুতেই হাসপাতালে এলে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কথা বিবেচনা করে জেলায় দৈনিক নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। জেলায় ল্যাব টেকনোলজিস্টের সংকট থাকলেও প্রতিদিন সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে পরীক্ষায় আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জেলার করোনা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই মাসে মাগুরায় শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৫৩৮ জনের। এর মধ্যে জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে জেলায় ৫২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩২ শতাংশের বেশি। জুন মাসের শুরু থেকেই সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করে। গত মাসে জেলায় ৩২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। শনাক্তের হার ছিল ৩০ শতাংশের বেশি। যেখানে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে গড়ে সংক্রমণ হার ছিল ১০ শতাংশের নিচে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন