মাঠে নেই দুই সিটির কেউ

ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধবিষয়ক কমিটির সভাপতি দুই মেয়র। ওয়ার্ড পর্যায়ে এই কমিটির সভাপতি কাউন্সিলররা। কিন্তু চলমান লকডাউনে সংক্রমণ প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত দুই সিটি করপোরেশনের দৃশ্যমান তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তবে ক্ষেত্রবিশেষে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কিছু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে ঢাকার দুই সিটি কর্তৃপক্ষ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বলছেন, লকডাউন বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সংক্রমণ রোধে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণকে সম্পৃক্ত করে, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে মেয়র ও কাউন্সিলরদের এগিয়ে আসা দরকার ছিল।

গত মার্চে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রকট হতে শুরু করে। সংক্রমণ মোকাবিলায় ৫ এপ্রিল থেকে চলাচল ও কাজে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এরপরে ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক লকডাউন। তবে লকডাউনে বিধিনিষেধ এখন শিথিল করা হয়ছে। এই বিধিনিষেধের মেয়াদ ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই ২৫ এপ্রিল থেকে দোকানপাট ও শপিং মল খুলে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লকডাউনে মানুষের ঘোরাঘুরি

লকডাউনে ঢাকার প্রধান সড়কে চলাচল কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও অলিগলিতে লোকজনের উপস্থিতি অনেক। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় কাউন্সিলরদের তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। কাঁচাবাজারগুলো খোলা জায়গায় স্থানান্তর এবং বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর ক্ষেত্রেও নেই কোনো উদ্যোগ।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন কাউন্সিলর বলেন, এবারের লকডাউন জনগণ গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। কাউন্সিলররা অনুরোধ করছেন, কিন্তু তাঁদের পক্ষে চাপ প্রয়োগ সম্ভব নয়। আর গত বছর বাজার স্থানান্তর ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে নজরদারির ক্ষেত্রে সেনাসদস্যরা মাঠে ছিলেন। এবার সেনাবাহিনী মাঠে না থাকায় বাজার স্থানান্তর ও স্বাস্থ্যবিধি সেভাবে মানা হয়নি।

১৪ এপ্রিল সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর আগের দিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সব ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে অনলাইনে সভা করেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সভায় লকডাউন বাস্তবায়নে কাউন্সিলরদের করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। বিধিনিষেধ যাতে বাস্তবায়িত হয়, সেটি নিশ্চিতে নির্দেশ দেন মেয়র।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, মন্ত্রিপরিষদ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী লকডাউন বাস্তবায়নে কাউন্সিলরদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানানো হয়েছে। কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে করা না হলে, সিটি করপোরেশনের জোর করার উপায় নেই।

ত্রাণ বিতরণে কার্যক্রম নেই

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বস্তিতে কয়েক লাখ নিম্ন আয়ের লোক বসবাস করেন। লকডাউনের কারণে তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে তাঁদের জন্য কোনো ধরনের ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়নি। কল্যাণপুর পোড়া বস্তির বাসিন্দাদের সংগঠন কমিউনিটি বেজড অর্গানাইজেশনের (সিবিও) সাধারণ সম্পাদক হান্নান আকন্দ বলেন, গতবার নানা উৎস থেকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছিল। এবার কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতবারের চেয়ে এবারের লকডাউনে লোকজনের মধ্যে ভয়ভীতি কম কাজ করেছে। লকডাউনের শুরুতেই না দিয়ে মাঝামাঝি সময়ে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে শেষ দিকে নিম্ন আয়ের লোকজনের বেশি সমস্যা না হয়।

বিজ্ঞাপন

কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ভ্রাম্যমাণ আদালতে

লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে দুই সিটির পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এর বেশি কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। অবশ্য ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭ এপ্রিল থেকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তারা বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে ডিএনসিসির কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, করপোরেশন থেকে এলাকায় বিতরণের জন্য সুরক্ষাসামগ্রী তাঁরা এখনো পাননি।

জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, এবারের লকডাউনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা প্রকট। লকডাউন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকার কথা কাউন্সিলরদের। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে লোকজনকে উৎসাহিত করতে পারতেন।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন