বেলা ১১টার দিকে কাজীপাড়ার একটি গলি থেকে হেঁটে বেগম রোকেয়া সরণিতে আসে দুই কিশোর। তাদের একজনের বয়স ১২ বছর, আরেকজনের ১৪ বছরের কাছাকাছি। তাদের দুজনের নামই আকাশ। তারা কাজীপাড়ায় কাঠের আসবাবপত্র তৈরির একটি কারখানায় কাজ করে। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়। থাকে মিরপুরেই। প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে দুজনের বাসা। কেন বাইরে বের হয়েছে জানতে চাইলে একজন বলে, আজ তাদের ছুটির দিন, তাই ঘুরতে বেরিয়েছে। কোথায় যাবে তা–ও তারা জানে না। যতক্ষণ ভালো লাগবে, ততক্ষণ তারা হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়াবে। পরে বাসায় ফিরে যাবে। এই দুই কিশোরের মুখেও মাস্ক ছিল না। কেন মাস্ক পরেনি, সেই প্রশ্নের জবাবও নেই তাদের কাছে।

দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরও রাজধানীর অলিগলিতে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গলির ভেতরে পুলিশের অভিযান কম থাকায় বিধিনিষেধ মানছে না সাধারণ মানুষ। ফলে অপ্রয়োজনে অনেকেই যাচ্ছেন গলিতে, ভিড় জমাচ্ছেন। আজ সকালে মিরপুরের বিভিন্ন গলির চিত্র ছিল এমন।

সকালে মিরপুরের কাজীপাড়ার বাসস্ট্যান্ড থেকে বউবাজারের গলিতে দাঁড়িয়েছিলেন তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। মাস্ক থুতনিতে রেখে চাবি দিয়ে কান চুলকাচ্ছিলেন তিনি। কেন তিনি বের হয়েছেন, তার সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক মো. বিপ্লবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় বসে থাকার উপায় নাই, ভাড়া থাকুক আর না থাকুক। ঘরভাড়া, খাওয়া খরচসহ অনেক খরচ আছে। যেগুলো গ্রামে নাই। অন্যান্য দিন সকাল ৮ থেকে ৯টার মধ্যে বের হলেও শুক্রবার হওয়ায় ১০টার দিকে বেরিয়েছেন তিনি। ১ ঘণ্টার বেশি সময় রিকশা চালিয়েছেন আজ সকালে। উপার্জন ৫০ টাকার মতো।’