default-image

সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যুক্তরাজ্যফেরত ২৮ জনের শরীরে কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি। তবে তাঁরা যুক্তরাজ্যে সংক্রমিত হওয়া করোনার নতুন ধরনে (স্ট্রেইন) আক্রান্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শারীরিক জটিলতা না থাকায় তাঁদের গতকাল সোমবার থেকে সিলেটের খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আইসোলেশনেই রাখা হয়েছে। সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

করোনা শনাক্ত হওয়া ২৮ জনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে আজ মঙ্গলবার জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে কয়েক সদস্যের একটি দল সিলেটে আসার কথা রয়েছে।  

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ও সিলেটে করোনা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি মো. ময়নুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা শনাক্ত হওয়া যুক্তরাজ্যফেরত ব্যক্তিদের নমুনা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা করেছে। এতে করোনা পজিটিভ ফল আসে। পজিটিভ ফল আসা যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের নমুনা আবার নেওয়া হয়েছে অন্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানোর জন্য।

সূত্র জানায়, আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবাই যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়েই দেশে এসেছিলেন। এ ব্যাপারে কথা বলতে সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডলকে দুই দফা কল করলে তিনি কেটে দেন।

বিজ্ঞাপন

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. ময়নুল হক প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাজ্যফেরত ২৮ জনের শরীরে শনাক্ত হওয়া ভাইরাস করোনার নতুন ধরন হওয়ার আশঙ্কা আছে। যেহেতু তাঁরা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছেন, এ জন্য বাংলাদেশ সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের প্রয়োজন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যফেরত ব্যক্তিদের করোনা পরীক্ষা এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা হয় না। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে হয়। করোনা শনাক্ত হওয়া ২৮ জনের নমুনা আবার ওসমানী মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবে করার কথা রয়েছে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের কথা বলা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণ থাকায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এটি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু যুক্তরাজ্যফেরত ব্যক্তিদের করোনা ধরা পড়েছে, আমাদের ধরে নিতে হবে, সেগুলো করোনার নতুন ধরন। তবে এর জন্য আরও বিস্তারিত যাচাই করা হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কারও অবস্থা জটিল না। তাঁদের সাধারণভাবে আইসোলেশন করে রাখা হয়েছে।’

২১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি ফ্লাইটে সিলেটে ১৫৭ যাত্রী আসেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের চার দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়। কোয়ারেন্টিন শেষে গত রোববার তাঁদের করোনা পরীক্ষার নমুনা নেওয়া হয়। করোনা পরীক্ষার ফলাফলে ২৮ জনের করোনা পজিটিভ আসে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন