ষষ্ঠ মাসেও করোনায় হাজারের বেশি মৃত্যু

বিজ্ঞাপন
default-image

দেশে সংক্রমণের ষষ্ঠ মাসেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৬ জন।

৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানানো হয়। প্রথম মৃত্যুর তথ্য জানানো হয় ১৮ মার্চ। শুরুর দিকে মৃত্যু কম হলেও ক্রমে তা বাড়তে থাকে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশে কোভিড-১৯ শনাক্তের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। ছয় মাসে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ২৫১। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৫২ জন মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসওয়ারি হিসাবে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সংক্রমণের চতুর্থ মাসে—১ হাজার ২৬৭ জন। আর গতকাল পূর্ণ হওয়া ষষ্ঠ মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক (১ হাজার ১৮৭ জন) মৃত্যু হয়েছে।

সংক্রমণের প্রথম মাসে মোট ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দ্বিতীয় মাসে মারা যান ১৮৬ জন। তৃতীয় মাসে ৭২৪ জনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে টানা তিন মাস প্রতি মাসে হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বিবেচনায় দেশে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আক্রান্তের শীর্ষে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে অবশ্য দেশে মৃত্যুর হার কম।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মৃত্যু বাড়লেও ষষ্ঠ মাসে নতুন রোগী ও পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার আগের মাসের চেয়ে কমেছে। এই মাসে মোট ৭৪ হাজার ১৩৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে; যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৯ হাজার কম। ষষ্ঠ মাসে মোট পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ১৮ শতাংশ, এটিও আগের মাসের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ কম।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৯২ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৬৪ শতংশ; যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে এক দিনে শনাক্তের হার এর চেয়ে কম (১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ) ছিল ৯ মে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুরু থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক পরা, কিছু সময় পরপর সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং লোকসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সে আহ্বানও খুব একটা থাকছে না। ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছুই খুলে গেছে। রাজধানীসহ দেশের সব জায়গায় জীবনযাত্রা প্রায় সবকিছুই আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বালাই নেই। সন্দেহভাজন অনেকে পরীক্ষার বাইরে থাকছেন। পরীক্ষা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্ন) রাখা, তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা (ট্রেসিং) ও কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) রাখার মতো কাজগুলো চলছে ঢিমেতালে। এতে দেশে দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন