বিজ্ঞাপন

পিসিআর ল্যাব–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মে মাসের শুরুতে এই বিভাগে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর প্রতিদিনই নমুনার সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে চলতি মাসের শুরু থেকে এই সংখ্যা বেশি বাড়ায় নমুনাজট লেগে গেছে। প্রতিদিন ভোলা ছাড়া পাঁচ জেলা থেকে প্রায় সাড়ে ছয় শ নমুনা আসছে এখানে।

এ ছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩০০ শয্যার করোনা ওয়ার্ড থেকে দুই শতাধিক নমুনা পাচ্ছেন তাঁরা। চলতি সপ্তাহে এই হাসপাতাল থেকে একদিনে ৩৮২টি নমুনাও এসেছে। কিন্তু এই ল্যাবে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা দৈনিক ১৮৮টি। ফলে এখানে অনেক নমুনা জমা হয়ে আছে।

ল্যাব সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে এই ল্যাবে আসা দেড় হাজার নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এরপরও শুক্রবার পর্যন্ত তাঁদের কাছে ৯০০ নমুনা পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমাণ আছে। এই ৯০০ নমুনা পরীক্ষা করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ লেগে যাবে। তার ওপর প্রতিদিন নতুন করে ৬০০ থেকে-৭০০ নমুনা আসছে। এমন অবস্থায় হিমশিম খাচ্ছেন এই ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইরোলজিস্ট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা।

ল্যাবটির প্রধান ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম আকবর কবীর শুক্রবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন যে অবস্থা, তাতে প্রতিদিন সাড়ে ছয় শর ওপর নমুনা আমাদের কাছে আসছে। গত এক সপ্তাহে আমরা দেড় হাজারের বেশি নমুনা ঢাকায় পাঠিয়েছি। এখনো আমাদের হাতে ৯০০ নমুনা জমে আছে। শুরু থেকেই নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমাদের তাগিদ ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে তিন পালায় কাজ করে এক দিনে আড়াই শর বেশি নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু এরপর মেশিনে সমস্যা হওয়ায় সেটা বন্ধ করতে হয়েছে। নতুন আরেকটি মেশিন আমাদের দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটির সরঞ্জাম (অ্যাকসেসরিজ) দেয়নি বলে ইনস্টল করা যাচ্ছে না।’

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বরিশাল বিভাগে বর্তমানে দুটি মাত্র আরটি-পিসিআর ল্যাব আছে। এর মধ্যে ভোলায় একটি এবং অন্যটি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে। দুটি ল্যাবেরই প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা ১৮৮টি করে। তাতে বিভাগে প্রতিদিন সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে ৩৭৬টি। এর মধ্যে শুধু শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ল্যাবেই প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা হয়। যোগাযোগ–সংকট ও চলমান বিধিনিষেধের কারণে ভোলায় ১০০টির বেশি নমুনা পরীক্ষা হয় না।

জানতে চাইলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন আমরা জট কমানোর জন্য বেশ কিছু নমুনা ঢাকায় পাঠাচ্ছি। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে নতুন আরেকটি মেশিন এরই মধ্যে এসেছে। সেটি যাতে দ্রুত ইনস্টল করে ভোগান্তি কমানো যায় সে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে নতুন আরেকটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য আমরা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করি সেটা শিগগরিই হবে। এ ছাড়া বর্তমানে অ্যান্টিজেন ও ১০টি উপজেলায় জিন এক্সপার্ট মেশিনেও করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে।’

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন