বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৭৬ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। ভারত থেকে ফেরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতটি আবাসিক হোটেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল, বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন এবং জেলার বেসরকারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়।

আর আখাউড়া উপজেলার হোটেল নাইন স্টার, হোটেল রজনীগন্ধা, জেলা শহরের হোটেল অবকাশ, হোটেল তাজ, হোটেল তিতাস, আশিক প্লাজা হোটেল ও গ্র্যান্ড মালেক হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এসব হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা ও খাওয়া বাবদ খরচ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজেদেরই বহন করতে হয়। শুধু বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে বিনা মূল্যে থাকছেন বাংলাদেশি নাগরিকেরা। তবে খাবার খরচ যাত্রীদের দিতে হয়।

default-image

জেলা ও আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২৬ এপ্রিল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত শুরু হয়। ২৬ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা ৬০০ জনের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত ১৫ জন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসেছেন। বাকি ৫৮৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ৪৩ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন পূর্ণ করায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৫৮ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের হেলথ ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আব্দুল মোমেন ভারতে আটকা পড়া বাংলাদেশি নাগরিকেরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসতে পারবেন বলে জানান। এ ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেন মন্ত্রী। সেগুলো হলো সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ফেরত আসা নাগরিকদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করবে। প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে যাঁদের কোভিড টিকার দুটি ডোজ নেওয়া আছে এবং কোভিড নেগেটিভ সনদ নেওয়া আছে, তাঁরা সরাসরি ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনের জন্য বিবেচিত হবেন।

আর প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে যাঁদের করোনা টিকার একটি ডোজ নেওয়া আছে অথবা কোনো ডোজ নেওয়া হয়নি এবং কোভিড নেগেটিভ সনদ আছে, তাঁদের তিন দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে। তারপর করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলে তাঁরা পরবর্তী ১১ দিন বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টিন পালন করবেন। স্থানীয় প্রশাসন এসব নিশ্চিত করবে।

আখাউড়া ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, আটকে পড়া যাত্রীদের হাইকমিশনারের অনাপত্তিপত্র, সর্বশেষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা করোনার নেগেটিভ সনদ এবং নিজ দেশে ফিরে নিজ খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকার শর্তে যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। গত শনিবার ১২ জন বাংলাদেশে ফিরেছেন। আর চারজন ভারতীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর-এ আলম প্রথম আলোকে বলেন, গত ২০ দিনে ৬০০ জন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে জেলায় ২৭৬ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন পূর্ণ করেছেন, এমন সর্বমোট ৫৮ জনকে শনিবার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন