বিজ্ঞাপন

তবে ঈদের দিনে কমেছে নমুনা পরীক্ষাও। ঈদের দুদিন আগে অর্থাৎ বুধবার যেখানে ১৩ হাজার ৪৭১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল, সেখানে ঈদের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছে মাত্র তিন হাজার ৭৫৮ জনের। পরীক্ষা কমেছিল তার আগের দিনও, সেদিন ৭ হাজার ৮৩৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়।

নমুনা পরীক্ষা কমায় ওই দিন শনাক্তও কমেছিল, ৮৪৮ জন। গত ৮ মার্চের পর এই প্রথম দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা হাজারের নিচে নেমেছিল। আর ঈদের দিন পরীক্ষা আরো কমায় শনাক্ত নেমে এল মাত্র বিগত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে।

আগের দিন শনাক্তের হার বাড়লেও ঈদের দিন তাও কমেছে। শুক্রবার যেখানে শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ জানানো হয়েছিল, সেখানে আজ শনিবারের বুলেটিনে তা কমে ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ হয়েছে। এই হার কয়েক দিনের মধ্যে কম।

গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তার আগের দিন বুধবার ছিল ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বুঝতে পারার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।

গত এক দিনে নতুন শনাক্ত ২৬১ জনকে নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৬।

আর নতুন করে ২২ জনের মৃত্যু নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১২৪।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকে।

এ বছরের মার্চ মাস থেকে করোনার সংক্রমণ আবার বেড়ে যায়। মার্চের প্রথমার্ধেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের উপরে চলে যায়। বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৬ মার্চের বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু খবর দেওয়া হয়, সেখানে এক মাস পর ২৫ এপ্রিলের বুলেটিনে ১০১ জনের মৃত্যুর কথা জানায় সরকার।

করোনা সংক্রমণ ও এতে মৃত্যু বাড়তে থাকায় গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে মানুষের চলাচলে বিধি–নিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে। এই বিধি-নিষেধে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ধীরে ধীরে সংক্রমণ ও দৈনিক মৃত্যু কমেছে। তবে ঈদ সামনে রেখে শপিং মল ও দোকানে মানুষের ভিড় এবং ঘরমুখো মানুষের ঢল নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন