default-image

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ আগামী ৭ এপ্রিল থেকে দেওয়া শুরু হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ডোজের কার্যক্রমও চলমান থাকবে। তবে আজ মঙ্গলবার ৫০ লাখ টিকা আসার কথা থাকলেও এসেছে মাত্র ২০ লাখ টিকা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের অগ্রগতিসংক্রান্ত এক সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৭ এপ্রিল থেকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে। তখন আট সপ্তাহ হবে। তাতে ইমিউনিটি ভালো হয়। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন। পাশাপাশি যাঁরা প্রথম ডোজ নেবেন, সেটাও চলমান থাকবে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আজ আরও ২০ লাখ ডোজ গ্রহণের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ মাসে আমাদের পাওয়ার কথা ছিল ৫০ লাখ। কিন্তু পেয়েছি ২০ লাখ। অর্থাৎ এখানে একটা ঘাটতি হয়ে গেল। এ ব্যাপারে আমরা স্থানীয় ডিলার ও সেরামের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছি যে আপনারা এটা তাড়াতাড়ি মেকআপ করেন। তাদের চাহিদা অনেক।’

বিজ্ঞাপন

ঘাটতি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ মালেক বলেন, ‘যোগাযোগ হচ্ছে। তারা আগামী মাসে বাড়িয়ে দেবে বলেছে। কত বাড়িয়ে দেবে, সেটা কনফার্ম করলে জানাব।’ তিনি আরও বলেন, ভারত বায়োটেক এবং চায়নার একটি সরকারি কোম্পানিও টিকার জন্য আবেদন করেছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে চিঠিপত্র পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, যে টিকাগুলো বেশি কম তাপমাত্রায় রাখা হয়, সেগুলো এ দেশে রাখা কষ্টকর। তাই ওই টিকায় অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেগুলো সহজে রাখা যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনে টিকা যতটুকু সহজলভ্য হবে, তার ওপরই টিকা কার্যক্রম নির্ভর করবে। যে হারে নিবন্ধন হচ্ছে এবং মানুষ টিকা নিচ্ছে, তা বজায় থাকবে যদি একই হারে টিকা পাওয়া যায়। সরকার সে চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, টিকা পাওয়াতে যদি কমবেশি হয়ে যায়, তবে টিকা দেওয়ার হারেও কমবেশি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ১৮–এর নিচে যেসব শিক্ষার্থী আছে, তাদের টিকা দেওয়া হবে না। ১৮–এর ওপরে যাঁরা, তাঁদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, বিদেশে যেতে হলে ডাবল ডোজের টিকা এবং করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও জানান, টিকা কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলমান। ১ হাজার ১০টি কেন্দ্রের প্রায় ৩ হাজার বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৩ লাখ ৮২ হাজার ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫ লাখ পুরুষ এবং প্রায় ৮ লাখ নারী। নারীরা একটু পিছিয়ে আছেন। তিনি আহ্বান জানান, নারীরা যেন আরও এগিয়ে আসেন। এ পর্যন্ত ৩৬ লাখ নিবন্ধনের কথা জানান মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন