জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ৯৬ পোষ্যকে ভর্তির জন্য আজ সোমবারের মধ্যে অনুমিত না দিলে কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল রোববার সকালে তাঁদের অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় এ ঘোষণা দেন তাঁরা।
গতকাল সাধারণ সভার নামে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকাল নয়টা থেকে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সাড়ে নয়টার দিকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের ব্যানারে সাধারণ সভা শুরু হয়। এ সময় তাঁরা অনুত্তীর্ণ সব পোষ্যদের আজ সোমবারের মধ্যে ভর্তির অনুমতি না দিলে মঙ্গল ও বুধবার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দাবি না মানলে উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও হুমকি দেওয়া হয়।
কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘পোষ্যদের ভর্তি করতে অতীতে অতিরিক্ত নম্বর (গ্রেস) দেওয়া হয়েছে। কোনো নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি করানো হয়নি। তাই এ বছরও সব পোষ্যকে ভর্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শতকরা ৩৫ নম্বর পেলেই একজন পোষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় ১৩৯ জন পোষ্যের মধ্যে ৩৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৪৩ জন। বাকিরা অনুত্তীর্ণ হন।
এর আগে গত আগস্ট মাসে ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির প্রকাশ করার পর আবেদনের যোগ্যতা শিথিলের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়ন। তাদের দাবির মুখে তখন যোগ্যতা শিথিল করে পুনঃ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রশাসন। এখন দ্বিতীয় দফায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির দাবি জানাচ্ছে তারা। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে অতিরিক্ত ৩ নম্বর দিয়ে ও বিভাগীয় শর্ত শিথিল করে অনুত্তীর্ণ অর্ধশতাধিক পোষ্যকে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন