জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পোষ্যদের ভর্তির জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে গত আগস্ট মাসে তাঁদের আন্দোলনের মুখে ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা শিথিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শতকরা ৩৫ নম্বর পেলেই একজন পোষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় ১৩৯ জন পোষ্যের মধ্যে ৩৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৪৩ জন। বাকি ৯৬ জন পোষ্যই অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। এই অনুত্তীর্ণ ৯৬ জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে দাবি জানানো হচ্ছে। এ জন্য অনুত্তীর্ণ পোষ্যদের ১০ নম্বর গ্রেস (অতিরিক্ত নম্বর) দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করছেন তাঁরা।
এর আগে গত আগস্ট মাসে ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর আবেদনের যোগ্যতা শিথিলের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়ন। দাবির মুখে তখন যোগ্যতা শিথিল করে পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রশাসন। এখন দ্বিতীয় দফায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির দাবি জানানো হচ্ছে।
কর্মচারী সমিতির সভাপতি আইনাল হক বলেন, ‘কর্মকর্তা সমিতি, কর্মচারী সমিতি এবং কর্মচারী ইউনিয়ন আমরা সবাই পোষ্যদের ভর্তির দাবি জানিয়েছি। তবে প্রশাসন এখনো কিছু জানায়নি।’ কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফ মিয়া আইনাল হকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
অনুত্তীর্ণ পোষ্যদের ভর্তির দাবি যৌক্তিক কি না, জানতে চাইলে আইনাল হক বলেন, ‘নির্বাচনের পর নতুন কমিটির দায়িত্বে আমরা এসেছি। আগের কমিটির নেতারা কী দাবি করেছেন, সে বিষয়ে আমরা বলতে পারব না।’
এদিকে উপাচার্যের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার দুপুরে অনুত্তীর্ণ পোষ্যদের ভর্তির জন্য ১০ নম্বর গ্রেসের দাবিতে উপাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন কর্মকর্তা সমিতির নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা।
জানতে চাইলে কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে গিয়েছিলাম।’
পোষ্য ভর্তি কমিটির সভাপতি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল খায়ের বলেন, প্রতিবছরই এ ধরনের দাবি আসে। কিন্তু এ বছর এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ ও দর্শন বিভাগের শিক্ষক রায়হান রাইনসহ বিভিন্ন বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ পোষ্যদের ভর্তির প্রতিবাদ জানান।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন