default-image

টাকার জন্য মা-বাবাকে মারধর করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ওই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের বড়চর গ্রামে।

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বড়চর গ্রামের ফারুক আহমদ (৩৫) প্রায়ই তাঁ র মা, বাবা ও ভাইবোনদের কাছে টাকা চাইতেন। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বিবাহিত ফারুক সবার বড়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই ফারুক পরিবারের সব সদস্যকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি তিনি তাঁর মা ও বাবাকেও নিয়মিত মারধর করতেন। টাকার জন্য তিনি ঘরের জিনিসও একাধিকবার বিক্রি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন সূত্র আরও জানায়, দুই দিন আগে ফারুক টাকার জন্য মারধর করে তাঁর মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ফারুকের বাবা আমির উল্যা এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মহিউদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে ইউএনও স্থানীয় পানিউমদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইজাজুর রহমানসহ একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু ইউএনওসহ সবার উপস্থিতিতে ফারুক তাঁর বাবা-মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কয়েকবার তাঁদের মারধর করার জন্য এগিয়ে যান। তখন ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ফারুককে ১৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

বিজ্ঞাপন

ইউএনও শেখ মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, টাকার জন্য ফারুক তাঁর মা–বাবা, ভাইবোন ও স্ত্রীকেও মারধর করতেন। তিনি টাকা নিয়ে বাজে কাজে খরচ করতেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার গণমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার ফারুককে সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায়ও অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0