হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় অপহরণকারী সন্দেহে গতকাল বুধবার দুই নারীসহ চারজনকে আটক করে পিটুনি দিয়েছে জনতা। একপর্যায়ে তাঁদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় একটি আসবাবের দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বাহুবল থানার পুলিশ চারজনকে উদ্ধার করে। গুরুতর অবস্থায় আবদুল হামিদ (৪০) নামের একজনকে হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মণ্ডবকাঁপন গ্রামের মসজিদের পাশে আবদুল হামিদের একটি আসবাবের দোকান রয়েছে। এ দোকানের মালিক ও তাঁর কার্যক্রম নিয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহ ছিল অনেক দিন ধরে। তা ছাড়া মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ছিল এ দোকানে। এ নিয়ে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ ছিলেন হামিদের ওপর।
এদিকে মণ্ডবকাঁপন গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে রাজনকে (১৫) সম্প্রতি একদল অপহরণকারী একটি প্রাইভেট কারে করে উঠিয়ে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা তাকে ঢাকার ডেমরা এলাকায় নিয়ে যায়। পরে রাজন কৌশলে পালিয়ে বাড়ি আসে। রাজন তার অভিভাবক ও এলাকাবাসীকে জানায়, অপহরণকারীদের সঙ্গে আবদুল হামিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী হামিদকে অনুসরণ করতে থাকে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় একটি প্রাইভেট কারে করে দুই নারী ও আরেক ব্যক্তি হামিদের দোকানে আসে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে জনতা হামিদের দোকান ঘেরাও করে। মারধর করা হয় হামিদসহ ওই চারজনকে। পরে জনতা হামিদের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার পুড়িয়ে দেয় তারা।
খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানার পুলিশ, বাহুবল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা সদর থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আইফুল বিবি (৫০), এনাজ মিয়া (৩২) ও সীমা আক্তারকে (২৮) উদ্ধার করেন। আটক ব্যক্তিরা বলছেন, তাঁরা পরস্পরের আত্মীয়। তাঁরা হামিদের দোকানে আসবাব কিনতে এসেছিলেন।
বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, চিকিৎসাধীন হামিদসহ চারজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন