টানা অবরোধ ও হরতালে পরিবহনে করে অর্থ আনা-নেওয়া বন্ধ থাকায় অর্থসংকটে পড়েছে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সময়মতো প্রয়োজনীয় টাকা ওঠাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সদরের অগ্রণী, জনতা, পূবালী, ইসলামী ও সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়। ব্যাংকে এসে তাঁদের হিসাব নম্বরে (অ্যাকাউন্ট) জমা করা টাকা উত্তোলন করতে না পেরে অনেকেই হতাশ। এ নিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও কথা-কাটাকাটি হচ্ছে তাঁদের।

উপজেলার পইলপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা নেহার খাতুন বলেন, ‘জনতা ব্যাংকে ৬০ হাজার টেয়া তুলতে আইছি। হেরা আমারে মাত্র ২০ হাজার টেয়া দিছে। হুনলাম, ব্যাংকে নাকি টেয়া নাই। এলিগা দেয় নাই। সব টেয়া না পাইলে বাড়িতঘরের কাম করুম ক্যামনে?’

মতলব উত্তর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মো. সেলিম বলেন, তিনি অ্যাকাউন্ট থেকে ৬৩ হাজার টাকা তুলতে এসেছেন। ব্যাংক দিয়েছে ২৫ হাজার টাকা। বাকি টাকা দিতে পারবে না বলে জানিয়েছে। টাকা ওঠাতে না পেরে এখন খুবই বিপাকে পড়েছেন তিনি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরে জনতা ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মো. শাহজালাল জানান, টানা অবরোধে চাঁদপুর ও ঢাকা থেকে গাড়িতে করে টাকা আনা-নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। টাকা আনা-নেওয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ জন্য গ্রাহকদের চাহিদা অনুসারে টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। আনুপাতিক হারে গ্রাহকদের কিছু কিছু করে টাকা দেওয়া হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জসিমউদ্দিন বলেন, এখানকার কোনো ব্যাংকেই টাকা নেই। কেনাবেচা কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও তেমনভাবে ব্যাংকে টাকা জমা করেন না। এতে গ্রাহকদের টাকা দিতে অসুবিধা হচ্ছে।

সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে গ্রাহকদের চাপ আরও বাড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

জনতা ব্যাংক চাঁদপুর অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক আমির হোসেন জানান, নিয়মিত টাকা আনা-নেওয়া করতে না পারলে সমস্যার সমাধান হবে না।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন