অবশেষে নূর হোসেনকে বরখাস্ত

বিজ্ঞাপন
default-image

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে অবশেষে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে গত বৃহস্পতিবার সই করা হলেও আজ রোববার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেছেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জসীম উদ্দিন হায়দার।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন আইন)-২০০৯-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী নূর হোসেনকে কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণ এবং পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
নূর হোসেন খুনের ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান। পরে সেখানকার পুলিশ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে ওই দেশের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আদালতে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর সাজা হয়েছে। এই দুটি কারণ দেখিয়ে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

এ ছাড়া ফৌজদারি মামলাজনিত কারণে নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নূর হোসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং শাহজালাল বাদল ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। শাহজালাল সম্পর্কে নূর হোসেনের ভাতিজা। ওই খুনের ঘটনার পর থেকে শাহজালালও পলাতক। তাঁদের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের অক্টোবরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু এতদিন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় তাঁরা দুজনই কাউন্সিলর পদে বহাল ছিলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইনে মেয়র ও কাউন্সিলর অপসারণ প্রসঙ্গে ১৩-এর (ক) ও (খ) ধারায় উল্লেখ আছে, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া সিটি করপোরেশনের পর পর তিনটি মাসিক সভায় অনুপস্থিত থাকলে কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণযোগ্য হবেন। কেউ নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে তিনিও অপসারণযোগ্য হবেন। নূর হোসেন ও শাহজালাল বাদল সিটি করপোরেশনের পর পর চারটি মাসিক সভায় অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া অবৈধভাবে বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণী সংরক্ষণের দায়ে আদালত নূর হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায়ও নূর হোসেনের তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন গত বছরের ২৭ এপ্রিল অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং ১ মে একজনের লাশ শীতলক্ষ্যায় ভেসে ওঠে। লাশ উদ্ধারের আগেই নূর হোসেন ও শাহজালাল বাদল আত্মগোপন করেন। কাউন্সিলর নজরুল ও তাঁর চার সহযোগীকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে তাঁর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা থানায় ২৮ এপ্রিল নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সূত্র জানায়, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে থাকা নূর হোসেনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২২টি মামলা রয়েছে। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আছে আরও দুটি। শাহজালাল বাদলের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে। সাত খুনের পর গত বছরের মে মাসে জেলা প্রশাসন নূর হোসেন, শাহজালাল বাদল ও তাঁদের সহযোগীদের ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে।

আরও জানতে ক্লিক করুন

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন