নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ দিন ধরে ফাউন্ডেশনের ভেতরের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপ বলেন, একটি গাছ কাটার প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না। শুধু রাস্তার ওপরে থাকায় দুটি গাছের দুটি ডাল কাটা হয়েছে। গাছ কাটার প্রমাণ আছে বললে বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে জানান।
গতকাল রোববার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ভবনের পূর্ব পাশে লেকের পাড়ে ও দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পুকুরপাড়ের মেহগনি, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পুরোনো গাছ কেটে নছিমনে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকটি করাতকলে নিয়ে মূল গাছ কেটে আসবাব তৈরির জন্য কাঠ রাখা হচ্ছে। আর গাছের ডালপালা কেটে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য জ্বালানি তৈরি করা হচ্ছে। অহিদ উল্লাহ নামের একজন কাঠ ব্যবসায়ী এসব গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
অহিদ উল্লাহ বলেন, ‘ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি এসব গাছ কেটে শুধু ডালপালা বিক্রি করছি। মূল গাছ ফাউন্ডেশনের ভেতরে জমা করে রেখেছি।’ কর্তৃপক্ষ গাছের মূল অংশ অন্য কাজে ব্যবহার করবে বলে তাঁকে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ পর্যন্ত কতটি গাছ কাটা হয়েছে—জানতে চাইলে অহিদ উল্লাহ বলেন, ১৫টির মতো গাছ ইতিমধ্যে কেটেছেন। তবে শুধু ডালপালা বিক্রি করার কথা বললেও সরেজমিনে দেখা যায়, তিনি ডালপালার সঙ্গে গাছের মূল অংশও গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে—এ খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন ফাউন্ডেশনের প্রধান ফটকের সামনে ভিড় জমায়। তবে ফাউন্ডেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পরিবেশবাদী সংগঠন নির্ভীক-এর প্রধান সমন্বয়ক এ টি এম কামাল বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ফাউন্ডেশনের ভেতরের সৌন্দর্য নষ্ট করে অসাধু কর্মকর্তারা গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন। গাছ কাটা বন্ধ না হলে তাঁরা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ আন্দোলনে যাবেন বলে হুমকি দেন। এ সময় তিনি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন