default-image

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন তাঁর বাবা শিক্ষাবিদ অজয় রায়। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় তিনি মামলাটি করেন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলায় সংখ্যা উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় খুন হন অভিজিৎ। অভিজিতের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রাফিদা আহমেদ। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হন। 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিজিৎ (৪২) মারা যান। রাফিদার (৩৫) মাথায় চাপাতির চারটি আঘাত লেগেছে। তাঁর বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
অভিজিৎ রায় ও রাফিদা আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। অভিজিৎ ‘মুক্তমনা’ ব্লগের সম্পাদক ও লেখক। ‘কুসংস্কার ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে’ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৭ সালে জাহানারা ইমাম পদক পায় মুক্তমনা। তিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে। রাফিদা আহমেদ লেখালেখি করেন বন্যা আহমেদ নামে। অভিজিৎ রায়ের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’, ‘মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে’, ‘স্বতন্ত্র ভাবনা: মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি’, ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’।
লেখক–ব্লগার অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা

অভিজিতের কয়েকজন ঘনিষ্ঠজনের অভিযোগ, লেখালেখি করার কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময় ব্লগ ও ফেসবুকে হুমকি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে শফিউর রহমান ফারাবী নামে এক ব্যক্তিও রয়েছেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অভিজিৎ প্রতিদিন বইমেলায় যেতেন বলে তাঁর ভাই ও বন্ধুরা জানিয়েছেন। তাঁদের ধারণা, এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

প্রায় এক দশক আগে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একইভাবে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন লেখক হুমায়ুন আজাদ। আর গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি খুন হলেন অভিজিৎ রায়। এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে একই কায়দায় খুন হন ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন