অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন
default-image

কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি আফজল খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা নগরের নজরুল অ্যাভিনিউ সড়ক, কান্দিরপাড়-টমছমব্রিজ সড়ক, পুলিশ লাইনস ও রাজগঞ্জ সড়কে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে চারটি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১৩৮ জন ও শিক্ষার্থী ৫ হাজার ৯৩৬ জন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আফজল খানের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিনের অনুসারী আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ‘কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলকে নিয়ে লুটপাটকারীদের ষড়যন্ত্র চলবে না, চলবে না’, ‘শিক্ষা শান্তি উন্নতি রিফাত কমিটির মূলনীতি’-সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে। মানববন্ধন চলাকালে নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এতে বক্তব্য দেন আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম, আদর্শ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তারিকুর রহমান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সরকার মাহমুদ, কুমিল্লা মহানগর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক এম এ কাইয়ুম, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সিবিএর সভাপতি মো. আবুল খায়ের, কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক এ কে এম আক্তার হোসেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক (দিবা) জীবনচন্দ্র দেবনাথ, সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রভাতি) মো. আবুল কাশেম, অভিভাবক সদস্য মাহবুবা আক্তার, বন্যা দে, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমি চার মাস হলো যোগদান করেছি। এরই মধ্যে আফজল খান পরিবার চারটি মামলা করেছে। তাদের মামলার কারণে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন স্থগিত হয়ে পড়েছে।’

নাম প্রকাশ না করে বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক বলেন, ১৯৯৩ সালে ৪৯ শতক জমির ওপর কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। আফজল খান এর সভাপতি হন। পরে তাঁর স্ত্রী নার্গিস সুলতানাকে প্রধান শিক্ষক পদে বসান। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক নার্গিস সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে আবার তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। সরকারি বিধি ভঙ্গ করে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পরে আন্দোলনের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁকে সরিয়ে দেয়। আফজল খান সর্বশেষ যখন (২০১৪-১৬) ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর করেন, তখন বিদ্যালয় তহবিলে ছিল ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯৯ টাকা। আর বর্তমানে ভর্তি ও সেশন ফি কমানো সত্ত্বেও জমা আছে ৫ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৮ টাকা।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জীবনচন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে আসেন। ওই সময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ২০০ টাকা, সেশন ফি ১০০০ টাকা ও অনুপস্থিতির নামে ১০০ টাকা জরিমানা ও পুনঃ ভর্তি ফি ৩ হাজার ৮০০ টাকা মওকুফ করে দেন। এতে করে নগরের অভিভাবকেরা সাংসদকে স্বাগত জানান। এদিকে ২০০৬ সালে আফজল খান শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত (সরকারি অংশের বেতন-ভাতাদি) বাতিল করার চক্রান্ত করেন। ২০১৭ সালে সাংসদের অনুসারী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হককে সভাপতি করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।’

সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আফজল খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই বিদ্যালয়কে ব্যবসাকেন্দ্র বানিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁরা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। নতুন করে এই বিদ্যালয় নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে লুটেরা।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আফজল খান বলেন, ‘স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আমি; বাহার (সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন) না। এই স্কুলের জন্য আমার স্ত্রী ছয় মাস জেল খেটেছে। আমি বা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে স্কুলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে কান কেটে হাঁটব। আমি এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। আমার ছেলে দাতা সদস্য। আমাদের বাদ দিয়ে ওরা কমিটি করতে চায়। তাই মামলা করেছি।’

১৯৮৪ সালে বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভার নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে (বর্তমানে মেয়র) কুমিল্লা শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজল খান ও একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ ক ম বাহাউদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে বাহাউদ্দিন জয়ী হন। এরপর থেকে দুই নেতার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকট আকার করে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন