default-image

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার ৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) তদন্ত করে এমন অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় মামলা কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করা হবে না, সাত কার্যদিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ সম্পর্কে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিপিও নিখিল চন্দ্র হালদার বলেন, ভোলার বিভিন্ন উপজেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে গত ৫ অক্টোবর তজুমদ্দিন উপজেলার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রধান শিক্ষকদের চিঠি দিয়ে এ তদন্ত অভিযান চালানো হয়েছে।  ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে যে বরাদ্দ হয়েছে তার ওপরই তদন্ত হয়েছে।

তদন্তে দেখা যায়,  বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (স্লিপ), রুটিন মেরামত, টয়লেট মেরামত, ক্ষুদ্র মেরামত ও প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণি সজ্জাকরণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ কারণে ২৮ অক্টোবর থেকে দুই দফায় উপজেলার ৫৩টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর চিঠি এবং চাঁদপুর নূরিয়া সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধানকে ধন্যবাদপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রধান শিক্ষক বরাদ্দের শতভাগ টাকা ব্যয় করেছেন।

বিজ্ঞাপন

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুর করিম, মধ্য-চাঁদপুর, চাঁদপুর ফুলকুঁড়ি, দড়িচাঁদপুর, চাঁদপুর ইসলামিয়া, ঘোষের-হাওলা, তারাগাজীর হাওলা, দত্তপাড়া, শাজাহান মিয়া, কাজীকান্দি, পূর্ব-আড়ালিয়া পাটুরিয়াকান্দি, দক্ষিণ আড়ালিয়া, উত্তর চাঁচড়া, লক্ষ্মীপুর, ফকিরেরহাট, পশ্চিম গোলকপুর, মধ্য-পশ্চিম গোলকপুর, দক্ষিণ কালাশা, উত্তর সম্ভুপুর, দক্ষিণ লামছিসম্ভুপুর, পশ্চিম-লামছিসম্ভুপুর, চাঁচড়া পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণ-পশ্চিম চাঁচড়া, দক্ষিণ চাঁচড়া, দেবীপুর, পূর্ব-কোড়ালমারা, দক্ষিণ-পূর্ব কোড়ালমারা, দক্ষিণ কোড়ালমারা, উত্তর কোড়ালমারা, উত্তর-পূর্ব চরকোড়ালমারা, বড় রামরতনপুর, মধ্য-দেবপুর, উত্তর-পশ্চিম লামছি, উত্তর চাপড়ি, দক্ষিণ চাপড়ি, পশ্চিম চাপড়ি, দক্ষিণ জগন্নাথপুর, চাঁদপুর-মজিদিয়া, পশ্চিম খোশনদী, দক্ষিণ শিবপুর, মধ্য-শিবপুর, উত্তর শিবপুর, রামদেবপুর, উত্তর রায়পুর, কৃষ্ণচন্দ্র, রাজকৃষ্ণসেন, ইন্দ্রনারায়ণপুর, পশ্চিম ইন্দ্রনারায়ণপুর, উত্তর চণ্ডিপুর, চণ্ডিপুর, কেয়ামূল্যাহমীর ও কেয়ামূল্যাহ রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাঁদের কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ভুয়া বিল-ভাউচার করে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় প্রধান শিক্ষক সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ অবস্থায় কেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে না, বা দুদকের কাছে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে না; সাত কার্যদিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে হবে।’

তবে তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, কাজীকান্দি ওয়াহিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র, শাহজাহান মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুসসহ অনেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষকের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের এসব বরাদ্দে উপজেলা শিক্ষা ও প্রকৌশলীর কার্যালয় ভাগ বসাচ্ছে। তাঁরা দালালের মাধ্যমে বরাদ্দের ১৫-২০ শতাংশ নিয়ে যায়। তার ওপর বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে ভাগ দিতে হয়। এ কারণে বরাদ্দকৃত টাকার পুরোটা খরচ করা সম্ভব না।
কারণ দর্শানোর চিঠি পাওয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুর ইসলাম বলেন, তাঁরা বিদ্যালয়ের বরাদ্দে কখনো ভাগ বসান না।

কারণ দর্শানোর চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ভুয়া বিল-ভাউচার করে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় প্রধান শিক্ষক সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ অবস্থায় কেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে না, বা দুদকের কাছে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে না; সাত কার্যদিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে হবে।’

তজুমদ্দিন উপজেলা প্রকৌশলী বিপুল কুমার অধিকারী বলেন, তিনি উপজেলার ৫৩টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোর খবরটি শুনেছেন। কোনো বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ হলে তাঁরা (উপজেলা প্রকৌশলী) প্রাক্কলন ব্যয় ও কাজের ছাড়পত্র দেন সত্য; তবে তিনি নতুন এসেছেন। প্রধান শিক্ষক কীভাবে ছাড়পত্র পেয়েছেন, তা জেনে বলতে হবে বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0