বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ রোববার ঢাকার মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উম্মে ফাতেমা রোজী (৪৫) নামের ওই অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি সহযোগীদের নিয়ে একটি প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছেন। পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্র সরবরাহ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন তাঁরা।

সিআইডি কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, সম্প্রতি এই ফাঁদে পা দিয়ে উম্মে ফাতেমা রোজীর দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়েছেন ওই আইনজীবী। এরপর কাগজপত্র ও ভিসা হাতে পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান, সবই ভুয়া–জাল। পরে রোজীর বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। এ মামলার অনুসন্ধানে নেমে চক্রের সদস্যদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর রামপুরা ও শাহজাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের সদস্য মো. সাইমুন ইসলাম (২৬) ও আশফাকুজ্জামান খন্দকারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সিআইডি কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, ওই আইনজীবী ছাড়াও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে একই কায়দায় প্রতারণা করেছেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, উম্মে ফাতেমা রোজী অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এসব অপকর্ম করে আসছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশি উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবেন বলে তিনি প্রলোভন দেখাতেন। সপরিবার গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ টাকা দাবি করতেন তিনি। তাঁর এসব মিথ্যা পরিচয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে যাওয়ার মোহে পড়ে একাধিক বাংলাদেশি প্রতারিত হয়েছেন।

উম্মে ফাতেমা রোজীকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, তাঁকে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন