default-image

মিরপুরে অ্যাসিডে ঝলসে গেছেন রহিমা বেগম (৩৮) নামের এক নারী। অ্যাসিডদগ্ধ ওই নারী বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তাঁর মুখমণ্ডল, পায়ের পেছনের অংশ ও হাত পুড়ে গেছে। রহিমার অভিযোগ তাঁর সাবেক স্বামী অ্যাসিড ছুড়েছেন। তাঁর শরীরের ১৬ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।  

রহিমা বেগম আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর সাবেক স্বামী আবদুল আলী মামলা না করতে এখন হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি মিরপুর থানায় জানানো হয়েছে বলে জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া।

রহিমার ছোট ভাই চান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনাটি ঘটে আজ সোমবার ভোরে। তাঁর বোন মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেসে (বিআইএইচএস) আয়ার কাজ করেন। কল্যাণপুরের নতুন বাজার বস্তিতে তাঁদের সঙ্গে থাকেন। রোববার রাতের পালায় কাজ ছিল তাঁর। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাসায় ফেরার পথে কল্যাণপুরের বাসার কাছে তাঁর সাবেক স্বামী আবদুল আলী অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়ে যান। চিৎকার শুনতে পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে রহিমাকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

বিজ্ঞাপন

স্বজনেরা জানান, আবদুল আলী ছিলেন রহিমার দ্বিতীয় স্বামী। রহিমার প্রথম স্বামী মানসিক রোগী। অভাবের তাড়নায় একপর্যায়ে দুই সন্তানসহ ঢাকায় আসেন। এ সময় আবদুল আলী জোর করে রহিমা বেগমকে বিয়ে করেন। মাদকাসক্ত আবদুল আলী প্রায়ই মারধর করতেন স্ত্রীকে। ইদানীং মাদক কেনাবেচাতেও জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। এসব নিয়ে কথা বললেই মারধর করতেন। ১০ বছর সংসার করার পর মাসতিনেক আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপরও মাঝেমধ্যে ফোন করে কিংবা রাস্তায় আটকে রহিমাকে গালিগালাজ করতেন তাঁর সাবেক স্বামী।

মন্তব্য পড়ুন 0