বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে চালান ধরা পড়লেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইসের বাহক ছাড়া অন্যদের বিষয়ে তথ্য বের করা যায়নি। এমনকি বাহকের কাছে যিনি আইস পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাঁকেও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি বেশির ভাগ ঘটনায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৯ সালে আইসের প্রথম যে চালানটি ধানমন্ডিতে ধরা পড়ে, তা বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ঢুকেছিল। এখন মূলত মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবার সঙ্গে আইসের চালান দেশে ঢুকছে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মেহেদি হোসাইন কবির প্রথম আলোকে বলেন, চাহিদার কারণে আইস এবং ইয়াবার সরবরাহ বাড়ছে। ঢাকায় আইস-ইয়াবার অনেক বেশি গ্রাহক হয়ে গেছে। এ কারণে এসব মাদকের চালান আসা বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে সীমান্তে মাদক চোরাচালান বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আইস খুবই ভয়ংকর মাদক বলে উল্লেখ করেছেন মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এই মাদক দেখতে স্বচ্ছ কাচের (ক্রিস্টাল) মতো। এই মাদক সেবনে নিদ্রাহীনতা, স্মৃতিবিভ্রম, মস্তিষ্কবিকৃতিসহ নানা শারীরিক-মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে এই মাদক সেবনে ওজন হারানো, কিডনি ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, বিষণ্নতা এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। আইস ইয়াবা তৈরির মূল উপাদান। ১ গ্রাম আইসের দাম ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

আইস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আইসের চালান নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতে সঙ্গে বাহককে অল্প দামের একটি মুঠোফোন দেন কারবারিরা। ওই ফোনের নম্বরে বাহকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তাঁরা। যোগাযোগের সময় মূল কারবারিরা ছদ্মনামে পরিচিত হন।

গত বছরের অক্টোবরের ফেনীতে ২০০ গ্রাম আইসসহ মো. সাব্বির নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাঁর বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নে। তাঁর কাজ ছিল কক্সবাজার থেকে আইসের একটি চালান ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া। এ ঘটনায় সাব্বিরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

ফেনী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্তের সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও একজনের নাম পেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তদন্ত কর্মকর্তা আর এগোতে পারেননি। এ কারণে একজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মাদক উদ্ধারের গতানুগতিক ধারাতেই আইস উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইসসহ যাঁকে পাওয়া যাচ্ছে, তাঁকেই আসামি করা হচ্ছে। কিন্তু মূল চক্রে যাঁরা আছেন, তাঁদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে সেটি হলো, দেশে আইস ছড়িয়ে দিতে দুবাইকেন্দ্রিক একাধিক চক্র সক্রিয়। তারা অবৈধভাবে মিয়ানমারে টাকা পাঠিয়ে আইস কেনে। পরে তা কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে দেশে নিয়ে আসে। ওই চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মেট্রোর উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াবা ও আইসের চালান কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে গরিব, অসহায় নারী ও শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। বাহকদের পেছনে কারা, সেটি খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন