পুলিশ গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫৮৭টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ অস্ত্র দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। আজ রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় এই তথ্য দিয়েছে।


বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ ১ হাজার ৬৭৬টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১ হাজার ৯১১টি অন্যান্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ৯৭৫টি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ৬৯৯টি বিদেশি। উদ্ধার হওয়া অবৈধ অস্ত্রের মধ্যে এলএমজি ২ টি, একে-৪৭ রাইফেল ৪টি, চাইনিজ এসএমজি ২টি, চাইনিজ রাইফেল ১৩টি, এসএলআর ৩টি, ২২/৩০৩ রাইফেল ৬টি, কাটা রাইফেল ২২টি, ডিবিবিএল ৮টি, এসবিবিএল ৬৬টি, দেশি রিভলবার ৫৭টি, বিদেশি রিভলবার ১২৪টি, দেশি পিস্তল ৫১টি, বিদেশি পিস্তল ৪৫৮টি, বন্দুক ১৩৯টি, কাটা বন্দুক ৬টি, পাইপগান ১৯০টি, শাটারগান ১২১টি, এলজি ২৫৯টি, এয়ারগান ৫৪টি এবং ওয়ান শ্যুটার ৬৭ টি।

বৈঠকে ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা ও জাপানি নাগরিক কুনিও হোশির হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশ বলেছে, তাবেলা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে। প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই বিষয়টি প্রকাশ করা হবে। কুনি হত্যার তদন্তে আরও সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, বিদেশি নাগরিক হত্যা ও আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিতে বোমা হামলার ঘটনা একসূত্রে গাঁথা।

বৈঠকে শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘দেশে সাংগঠনিকভাবে আইএস-এর অস্তিত্ব নেই। আমাদের গোয়েন্দারা সেটা পায়নি। কিছু একটা ঘটলেই তাৎক্ষণিক আইএস বিবৃতি দিচ্ছে। এটি প্রোপাগান্ডা হতে পারে, উদ্দেশ্যমূলক। আমরা তদন্ত করছি। যারাই হরকাতুল জিহাদ, তারাই হুজি, তারাই জেএমবি, তারাই আনসারুল্লাহ, শিবির...সবই একসূত্রে গাঁথা।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি। এখানে অন্য কোনো সন্ত্রাসী থাকতে পারে। তদন্ত করছি, শেষ হলে প্রকাশ করব কে কার সঙ্গে জড়িত।

বৈঠকে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের এবং রাজন ও রাকিব হত্যার মামলার অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, শামসুল হক, ওমর ফারুক চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ ও কামরুন নাহার চৌধুরী অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0