বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের (এসএফডিএফ) চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার লোপাট হওয়া ৭৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা আট বছর পরও আদায় করা হয়নি।
২০০৭ সালে ফাউন্ডেশনের ১২ মাঠ কর্মকর্তা এসব ঋণের টাকা গ্রহীতাদের কাছ থেকে আদায় করে আত্মসাৎ করেন। এতে বিপাকে পড়েছেন এক হাজার ক্ষুদ্র চাষি।
জনতা ব্যাংকের মতলব বাজার শাখা সূত্র জানায়, সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় ২০০২ থেকে ২০০৪ সালে ৩২টি গ্রামের দেড় হাজার ক্ষুদ্র কৃষককে ১ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও এসএফডিএফের প্রধান কার্যালয়ের চুক্তি অনুযায়ী স্থানীয় জনতা ব্যাংক এ ঋণ দেয়।
ঋণ আদায়ের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ২০০৬ সাল পর্যন্ত। টাকা বিতরণ ও আদায়ের দায়িত্বে থাকে এসএফডিএফ।
প্রত্যেক গ্রহীতাকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার, সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। ১৮ মাসের মধ্যে গ্রহীতাদের টাকা পরিশোধের কথা ছিল। ফাউন্ডেশনের মাঠ কর্মকর্তারা ৫০০ জনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা আদায় করে ব্যাংকে জমা দেন। বাকি এক হাজার কৃষকের কাছ থেকে ৭৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করে ব্যাংকে জমা না দিয়ে ওই মাঠ কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে একাধিক গ্রহীতা অভিযোগ করলে তদন্তে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। এর পর থেকে গা-ঢাকা দেন ওই ১২ কর্মকর্তা।
জনতা ব্যাংক মতলব বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. শাহজালাল জানান, টাকা আদায়ে এসএফডিএফের চাঁদপুর অঞ্চলের ব্যবস্থাপককে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ হচ্ছে না। অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত এসএফডিএফের ১১ মাঠ কর্মকর্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে বর্তমানে ফাউন্ডেশনের ঢাকা কার্যালয়ে কর্মরত ওই ১২ কর্মকর্তার একজন আবদুল মতিন বলেন, ‘পারিবারিক প্রয়োজনে কিছু টাকা নিয়েছি। পরে পরিশোধ করে দেব।’
এসএফডিএফের মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক সেলিম মিয়া জানান, ২০০৮ সালে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাকি কাজ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। টাকা আদায়ের চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন