বিজয় দিবসে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর এলাকায় আদিবাসীদের দোকান ও বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। গতকাল রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ দাবি জানান।
গত ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ ২৫ জনের একটি প্রতিনিধিদল এলাকা পরিদর্শন করে। এই দলে ছিলেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক অজয় রায়, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, কলামিস্ট মততাজ লতিফ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব মীর, চলচ্চিত্র নির্মাতা রাশেদ রাইন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২০ জন সংবাদিক। প্রতিনিধিদলের পরিদর্শন অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গতকালের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
রাজীব মীর বলেন আদিবাসীরা ওই প্রতিনিধিদলের কাছে অভিযোগ করেছে, অ-আদিবাসীদের আনারস বাগান কেটে ফেলার অজুহাতে গত ১৬ ডিসেম্বর নানিয়ারচরের সুরিদাশপাড়া, বগাছড়ি ও নবীন তালুকদারপাড়া জ্বালিয়ে দেয় অ-আদিবাসীরা। তাদের সহায়তা করতে সেনাসদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন।
প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ওই ঘটনা ঘটেছে। আদিবাসীরা সংখ্যায় কম ও দুর্বল বলেই বারবার তাদের ওপর এমন ঘটনা ঘটানো হয়। রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ যে কারণেই ঘটুক, এটা ফৌজদারি অপরাধ। প্রশাসন তা দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান।
বিশিষ্ট নাগরিকেরা সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো: হামলার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত বিচার করে শাস্তি প্রদান, আক্রান্তদের আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করা এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সময়সূচিভিত্তিক পরিকল্পনা করা।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক অজয় রায়, প্রবীণ রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টাচার্য, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য খুশী কবীর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন