default-image

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নে গতকাল রোববার প্রতিপক্ষের হামলায় যুবলীগের দুই নেতাকর্মী হত্যার ঘটনায় আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ রয়েছে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউপি নির্বাচনে দলীয় সমর্থন নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এর জের ধরেই হয় হামলা। নিহত দুজন হলেন ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি রাকিব উদ্দিন ওরফে রুমন (৩০) ও তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কর্মী ইশাত তালুকদার (২৪)। তাঁরা সভাপতির পক্ষের লোক। সোমবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নেতা মহিউদ্দিন লাভলু গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পেয়ে নির্বাচন করে জয়ী হন। পরে সালেহউদ্দিন পিকু ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মহিউদ্দিন লাভলু সাধারণ সম্পাদক হন। সভাপতি দলীয় সমর্থন বাড়াতে থাকেন। আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পাচ্ছেন বলে প্রচার চালাতে থাকেন তিনি। এ নিয়ে মহিউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার দুপুরে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য রফিকুলকে মারধর করেন সভাপতির সমর্থকেরা। এর জের ধরে রফিকুলের অনুসারীরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পক্ষের কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতা বশির ও ইব্রাহিম গুরুতর আহত হন। তাঁদেরকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, রোববার সন্ধ্যায় সালেহউদ্দিনের ছোট ভাই ও যুবলীগের নেতা রাকিব উদ্দিন এবং তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কর্মী ইশাত কেশবপুর বাজারে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় মহিউদ্দিন লাভলুর সমর্থক রফিক, রাসেল, ইব্রাহিম ও নুরুর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন তাঁদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান। এই সময় তাঁরা তাঁদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যান। এ পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

সোমবার বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্ট্রারে দেখা যায়, রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে ইশাতকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয় এবং রাকিব উদ্দিন রাত ৮ টা ৫০ মিনিটে নিয়ে আসার ১০ মিনিট পরই মারা যান।

সোমবার সকালে কেশবপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক পুলিশ বাজারে টহল দিচ্ছে। বিকেল ৫টায় কলেজ মাঠে রাকিব ও ইশাতের জানাজার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে সভাপতি পক্ষের নেতা-কর্মীরা লোকজন নিয়ে সমবেত হয়েছেন।

default-image

সালেহউদ্দিন পিকু অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান আধিপত্য বিস্তার করতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সমর্থনে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। প্রতিবাদ করায় নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সভাপতি আরও বলেন, ‘গত শুক্রবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বল্প পরিসরে জরুরি সভা ডাকলে ক্ষিপ্ত হন সাধারণ সম্পাদক। ওই দিন তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের সভা বানচাল করে দেন। পরে রোববার রাতে দ্বিতীয় দফা হামলা চালিয়ে তাঁর সমর্থকেরা আমার আপন ভাই ও চাচাতো ভাইকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করে।’

দলীয় সভা বানচাল, এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি এবং সভাপতির ভাই ও চাচাতো ভাইয়ের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য সোমবার বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন লাভলুর মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রাকিব উদ্দিন ও ইশাতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর বলেন, ‘দলে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আমাদের দুজন কর্মী মারা গেল। বিষয়টি দুঃখজনক। জেলা আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগকে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। এ ছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।’

বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘আসলে এটা দলীয় বিরোধ নয়, নিজেদের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ। এ ছাড়া সামনে ইউপি নির্বাচন। তাই দলীয় প্রার্থী হতেও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগ একাধিকবার বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বিরোধ মেটেনি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0