default-image

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে সেই রাতে বেশি পিটিয়েছেন ইফতি মোশাররফ সকাল ও অনিক সরকার। এ ছাড়া মনির, মুজাহিদ ও জিয়ন তাঁকে মারধর করেছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আজ মঙ্গলবার আবু নওশাদ সাকিব নামের এক বুয়েট ছাত্র সাক্ষ্য দিয়েছেন। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এবং শেরে বাংলা হলের ছাত্র। আবরারও একই হলের ছাত্র ছিলেন।

গত বছরের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বুয়েট ছাত্র আবু নওশাদ সাকিব আদালতকে বলেন, গত বছরের ৬ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে তিনি তাঁর বন্ধু সিজভীর কক্ষ থেকে নোট আনতে যান। রুম নম্বর ছিল ২০০৯। কিন্তু রুমে গিয়ে কাউকে না পেয়ে তিনি বেরিয়ে আসার সময় ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তানিমকে বের হতে দেখেন। ওই কক্ষের সামনে অনেক জুতা–স্যান্ডেল দেখতে পান। তখন তিনি কৌতূহলবশত ২০১১ নম্বর কক্ষে ঢোকেন। দেখেন আবরার ফাহাদ দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর পাশেই ১৫, ১৬ ও ১৭তম ব্যাচের অনেক ছাত্র দাঁড়িয়ে বা বসে ছিলেন। ওই কক্ষে ১৫তম ব্যাচের ছাত্র অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন; ১৬তম ব্যাচের ছাত্র ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদ এবং ১৭তম ব্যাচের ছাত্র তানিম, জেমি, তোহা, সাদাত, রাফাত ও অভিকে দেখতে পান।

বিজ্ঞাপন

মেহেদী হাসান রবিন আবরার ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন বলে আদালতকে জানান সাক্ষী আবু নওশাদ সাকিব। তিনি আদালতকে বলেন, আবরার ফাহাদের বাড়ি কোথায়, কোন কলেজের ছাত্র, তাঁর বাবা কি করেন, তাঁরা কয় ভাইবোন, এসব প্রশ্ন করেন মেহেদী। এরপর আবরারকে উদ্দেশ্য করে মেহেদী হাসান বলেন যে আবরার নাকি শিবির করে, তাঁর কাছে প্রমাণ আছে। অবশ্য আবরার তা অস্বীকার করেন। তখন রবিন আবার বলেন, ‘দেখ, তোকে আমরা কিছুই করব না। তুই শুধু বুয়েট এবং হলে কারা শিবির করে তাদের নাম বল।’ আবরার তখন বারবারই বোঝানোর চেষ্টা করেন, সে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত না। এরপরও আসামি মেহেদী ও ইফতি মোশাররফ সকাল আবরার ফাহাদকে প্রশ্ন করতে থাকেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি (নওশাদ) ওই কক্ষ থেকে চলে আসেন।

আবু নওশাদ সাকিব আদালতকে বলেন, হলের ছাত্র অভি তাঁকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোন দিয়ে তাঁর কক্ষে যেতে বলেন। পরে তিনি অভির কক্ষে যান। দেখেন অভির মন খারাপ। অভি তাঁকে জানান, আবরার ফাহাদকে ওরা মারধর করেছেন। তখন তিনি অভিকে জিজ্ঞেস করেন, কে কে মারতেছে? তখন অভি তাঁকে জানান, ইফতি মোশাররফ সকাল ও অনিক সরকার এই দুজন আবরার ফাহাদকে বেশি মারতেছেন। এ ছাড়া মনির, মুজাহিদ ও জিয়ন তাঁকে মারতেছেন। তিনি ওই রুম থেকে চলে আসেন এবং ঘুমিয়ে পড়েন। ভোররাত চারটার দিকে চিৎকার–চেঁচামেচিতে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। তখন তিনি জানতে পারেন, আবরার ফাহাদ মারা গেছেন।
ছাত্র আবু নওশাদ শাকিব আদালতকে জানান, বুয়েটের আবাসিক ছাত্রদের র‍্যাগিং থেকে বাঁচার জন্য ছাত্র সংগঠনে নাম লেখাতে হয়।

এ হত্যা মামলায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ২১ জানুয়ারি অভিযোগপত্রটি আমলে নেন আদালত। তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে পরস্পরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

৮ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। এই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলায় ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0