আমন্ত্রণ না পেয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভাঙচুর
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে ১৫-২০ জন লোক ওই হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে এ ঘটনায় নিজেদের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে গতকাল শোভাযাত্রা ও রংপুর টাউন হলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁর কার্যালয়ের সামনে এসে সমবেত হচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্লোগান দিয়ে ১৫-২০ জন লোক তাঁর কক্ষে ঢুকে নিজেদের জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী পরিচয় দেন। শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের কার্ড না দেওয়ায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁর (প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) কার্যালয়ে থাকা চেয়ার তুলে টেবিলে আঘাত করেন। এ সময় টেবিলে থাকা গ্লাস ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যায়। এরপর তাঁরা পুনরায় স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তবে এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কী করা যায় ভাবছি।’
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানি না।’
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের জিলানী বলেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান বলেন, ‘এমন একটি ঘটনার খবর আমি শুনেছি। তবে কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। আমি ওই অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেয়েছিলাম। শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেতে পারিনি।’