default-image

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ‘অপমান’ করায় মারধরের শিকার হয়েছেন পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম রকিব হায়দার। তাঁকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে পরশুরাম উপজেলার ধনিকুন্ডা রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় পরশুরাম উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়কসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৫ এপ্রিল ইউএনও এইচ এম রকিব হায়দার পরশুরাম উপজেলায় যোগ দেন।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খায়রুল বাশার মজুমদার ও তাঁর সহযোগীরা ইউএনওকে মারধর করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের ভাষ্যমতে, গতকাল সকালে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বিলোনিয়া স্থলবন্দর পরিদর্শনে যান। পথে তাঁকে স্বাগত জানাতে ফেনী-পরশুরাম সড়কের ধনিকুন্ডা রাস্তার মাথায় চিথলিয়া ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের সামনে অবস্থান করছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খায়রুল বাশার মজুমদারসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা মন্ত্রীকে দিয়ে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সে সময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় একজন নেতা এগিয়ে গিয়ে খায়রুল বাশারের সঙ্গে ইউএনওর পরিচয় করিয়ে দিতে চান। ইউএনও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ইউএনওর সঙ্গে খায়রুল বাশারের কথা-কাটাকাটি হয়। ওই সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত-আটজন নেতা-কর্মী ইউএনওকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ইউএনও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ইউএনওকে দ্রুত উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ফেনী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ছারোয়ার জাহান বলেন, ইউএনওর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাঁর সুস্থ হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ফেনী-১ আসনের সাংসদ শিরীন আখতার, ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান ও পুলিশ সুপার রেজাউল হক আহত ইউএনওকে দেখতে হাসপাতালে যান।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে খায়রুল বাশার মজুমদার বলেন, ‘ইউএনওর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। এ জন্য দলের একজন নেতা ইউএনওর সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলে আমি হাত বাড়িয়ে দিই। কিন্তু ইউএনও তা উপেক্ষা করে গাড়িতে উঠে যান। আমি এতে অপমানিত বোধ করলেও কিছু বলিনি। এরপর আমিও গাড়িতে উঠে চলে যাই। যাওয়ার সময় দলের কর্মী-সমর্থকদের ইউএনওর গাড়ির সামনে দেখেছি। সেখানে কী হয়েছে, আমি জানি না।’ তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এ ব্যাপারে ইউএনও এইচ এম রকিব হায়দারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় ইউএনওর গাড়িচালক আবুল কাশেম বাদী হয়ে খায়রুল বাশারসহ সাতজনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পরশুরাম পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আবদুল মান্নান, যুবলীগের স্থানীয় নেতা মো. পারভেজ ও রাশেদুল হাসান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন