মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আইরিন পারভীনের সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। গত রোববার রাতে ইউএনওর নিরাপত্তাপ্রহরী মফিজুল ইসলাম এ মামলা করেন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ইউএনও অপসারণ এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই লিটন হোসেন, উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য শওকত আলী, ঘিওর সরকারি কলেজের প্রভাষক কামাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মো. টিপু এবং ছাত্রলীগ কর্মী রিপন হোসেন, রহিম মিয়া, রুবেল হোসেন, মো. নিশাত ও জাকির হোসেন। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও ১৫০-২০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সরেজমিনে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সকালে দৌলতপুর বাজারে সরকারি জমির ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত চারটি দোকান উচ্ছেদ অভিযান চালান ইউএনও আইরিন পারভীন। এ ছাড়া সরকারি জমিতে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণের দায়ে কয়েকটি দোকানের মালিক ও করাতকলের মালিককে অর্থদণ্ড করেন ইউএনও। এর প্রতিবাদে ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে মিছিল বের করেন এবং ইউএনওর বাসভবন ঘেরাও করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ ব্যক্তি ইউএনও আইরিন পারভীনের সরকারি বাসভবনে হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাসভবনের ক্ষতি সাধন করে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার ও ইউএনওর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তাঁরা। এসব কর্মসূচিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস ও দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ছাড়াও ব্যবসায়ীসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাবিবুর রহমান বলেন, মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ইউএনও ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন। এর প্রতিবাদ করায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ইউএনওর অপসারণ দাবি করেন।
সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস বলেন, স্থানীয় সাংসদ নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবেন।
এ বিষয়ে ইউএনও আইরিন পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করায় নিয়ম অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সরকারি বাসভবনে হামলা চালিয়ে ক্ষতি সাধন ও আত্মরক্ষার্থেই মামলা করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল নিশাত বলেন, পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনা হওয়ায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন