অবরোধ-হরতালে মহাসড়কে নাশকতা ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় নাশকতাকারীরা বগুড়া সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে গোকুল মধ্যপাড়ায় আবদুর রহমান ওরফে রহিমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি গোকুল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তাঁর ছেলে মেহবুব রহমান সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, শোবার ঘরের বিছানাপত্র ছড়ানো-ছিটানো। ভেঙে তছনছ করা হয়েছে ঘরের রেফ্রিজারেটর ও টিভি থেকে শুরু করে ব্যবহার্য সব জিনিস। বাদ যায়নি ঘরের দরজা-জানালাও।
গোকুল এলাকার বাসিন্দা সূত্র জানায়, অবরোধ শুরুর পর থেকেই রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বগুড়ার গোকুল ও মহাস্থান এলাকা নাশকতাপ্রবণ হয়ে ওঠে। রাত নামলেই মহাসড়কে যানবাহনে পেট্রলবোমা ছোড়া ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ কয়েক দিন আগে গোকুল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এলাকাবাসীকে নিয়ে সহিংসতাবিরোধী সভা করে। সেখানে নাশকতা প্রতিরোধে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাওয়া হয়।
আবদুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের আহ্বান ও দলীয় সিদ্ধান্তে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০-৪০ জন দলীয় লোকজন গোকুল এলাকায় মহাসড়কে রাত জেগে পাহারা দিতে শুরু করি। এতে নাশকতাকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে আমার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।’
আবদুর রহমানের স্ত্রী আনজুমান আরা বলেন, ‘রাত আটটার দিকে দশম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে বাড়ির প্রধান দরজায় তালা দিয়ে দরকারি কাজে পাশে ভাশুরের বাড়ি যাই। এ সুযোগে মুখচেনা ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী রামদা দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে সব ঘরে ভাঙচুর চালায়। যাওয়ার সময় তিন ভরি ওজনের সোনার গয়না, ২০ হাজার টাকা এবং কম্পিউটার লুট করে নিয়ে যায়।’
মেহবুব রহমান বলেন, ‘ঘটনার সময় আব্বুর সঙ্গে আমিও মহাসড়কে নাশকতা ঠেকানোর জন্য পাহারা দিচ্ছিলাম। হামলার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে প্রতিবেশীদের কাছে শুনি, মহাসড়কে নাশকতায় জড়িত স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে।’
প্রতিবেশী গৃহবধূ আনজুমান আরা বলেন, ‘হামলাকারীদের সবার হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। ভয়ে কেউ প্রতিরোধ করার সাহস পায়নি।’
আবদুর রহমানের প্রতিবেশী ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট করে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা ছাত্রলীগের আরেক নেতার বাড়িতেও পেট্রলবোমা হামলা চালায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন